খোলা হলো মাদ্রাসা মাঠের তালা, দুপুরে সমাবেশ

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:০৭ এএম

বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের জন্য অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের তালা। 

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে পুলিশ গেটের তিন দিকের তিনটি গেটের তালা খুলে দেয়। এরপর স্লোগানে স্লোগানে মিছিল নিয়ে একটার পর একটা দল ঢুকছে মাঠে।

এই মাঠে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সমাবেশ করার অনুমতি পায় বিএনপি। তবে পুলিশের শর্ত ছিল, সমাবেশের আগে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নেতা কর্মীরা মাঠে ঢুকতে পারবেন না। শর্ত মেনে নেতা কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল সমাবেশের মাঠ সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে। তিন দিন ধরে নেতা কর্মীরা সেখানে অবস্থান করেছেন।

এদিকে, সমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) রাতে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের দুদিন আগেই সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছেছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী।

বাস মালিকদের ডাকা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে মোহাম্মদ আলীর মতো শত শত নেতাকর্মী ভিন্ন উপায়ে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের জন্য রাজশাহী আসছেন। তবুও পথে বাধা পড়ছে।

নওগাঁ সদর থেকে ১২ জনের একটি দলের সঙ্গে এসেছেন বৃদ্ধ মো. আবুজার (৬৬)। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় নওগাঁ থেকে তারা রওনা দেন রিকশায় চড়ে। বান্দাঘরা এলাকায় এসে রিকশা থেকে নেমে সিএনজিতে ওঠেন। এরপর বাগমারায় এসে নামেন। এখানে ওঠেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়। বাগমারা থেকে মোহনগঞ্জ আসার পর আবার সিএনজিতে ওঠেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেন, পুলিশ সবগুলো প্রবেশপথেই চেকপোস্ট পরিচালনা করছে যেন অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে। তবে নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। কিন্তু অবৈধ যানবাহন, যেগুলো শহরে ঢোকা বারণ, সেগুলোতে কেউ এলে তো বাধা দেওয়া হবে।

বিএনপির সমাবেশের আগে সাধারণ মালিকদের পাশাপাশি সরকারি বিআরটিসি বাসও বন্ধ রয়েছে। তবে চলাচল করছে ট্রেন। একটি কমিউটার ট্রেনে চড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসেছেন সোনাইচণ্ডিহাট এলাকার বাসিন্দা ও ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক মজিবর রহমান। ট্রেনের ভেতরে এবং স্টেশনে পুলিশ রাজশাহী যাওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে বলে জানান তিনি।

মজিবর বলেন, রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে যাচ্ছি বললে পুলিশ বলেছে যেতে দেওয়া হবে না। আমি বলেছি, আমি যাবই। টিকিট কেটেছি, আমি যাব।কেউ আটকাতে পারবে না। তখন আর পুলিশ ঝামেলা করেনি। তিনি বলেন, বিএনপি তিন ঘণ্টার একটা সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে। কিন্তু বাস বন্ধ করে দেওয়ার কারণে এই সমাবেশ তিন দিনের হয়ে গেছে। তিন দিন আগে থেকেই নেতাকর্মীরা এসে একত্রে থাকছে।

এদিকে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। রাজশাহী শহরের সব প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এ ছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে থাকছে পুলিশের অবস্থান। ১১ দফা দাবিতে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন সিএনজি ও থ্রি-হুইলার মালিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রফিকুল আলম বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সহিংস কিছু ঘটাতে না পারে, বিশৃঙ্খলা ঘটাতে না পারে সে জন্য আমরা সতর্ক আছি। শহরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ১৭টি পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গোটা শহরেই নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এদিকে বাস বন্ধের পর সিএনজিচালিত টেম্পোর ওপরই ছিল যাত্রীদের ভরসা। শহরের ভেতরে অটোরিকশায় চলাচল করলেও রাজশাহীর উপজেলা পর্যায়ে বা আশপাশের জেলার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল সিএনজি। গতকাল সকাল থেকে সেই পরিবহনও বন্ধ থাকায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে রাজশাহী। এখন পর্যন্ত বিমান এবং ট্রেনই যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে আছে। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বাড়তি কষ্টে পড়ল যাত্রীরা। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত