দেশের শান্তিপূর্ণ অগ্রগতি অনেকের পছন্দ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি মহল নানারকম গুজব ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। তাতে বিচলিত না হতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) ডিফেন্স কোর্স ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সরকার প্রধান বলেন, আমি একটা কথা বলতে পারি, যখন আমি সরকার গঠন করেছিলাম ১৯৯৬ সালে। তখন আমি রিজার্ভ পেয়েছিলাম ২ পয়েন্ট ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমরা তখন উদ্যোগ নিয়েছিলাম এটা বৃদ্ধি করতে। দ্বিতীয়বার যখন আমরা সরকার গঠন করি ২০০৯ সালে, তখন আমরা রিজার্ভ পেয়েছিলাম মাত্র ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমরা সেই ৫ বিলিয়নকে ৪৮ বিলিয়েন উত্তীর্ণ করতে সক্ষম হয়েছিলাম।
তবে, তার কারণ ছিল, তখন যেহেতু করোনার কারণে সব জায়গায় যাতায়াত বন্ধ ছিল, বিদেশে গমন বন্ধ ছিল, আমদানি বন্ধ ছিল। অন্যান্য দেশগুলোতেও যখন এই ধরনের অবস্থা, সেই কারণে এটা হয়েছে, বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি আরও বলেন, আমরা কিন্তু রিজার্ভ নিয়ে বসে থাকিনি, এদেশের মানুষের জন্য ভ্যাকসিন কিনে সেই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে আমরা মানুষকে দিয়েছি। ভ্যাকসিন কিন্তু যারা অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশ তারাও কিন্তু বিনামূল্যে দেয়নি। কিন্তু আমরা আমাদের টাকা খরচ করে ভ্যাকসিন কিনেছি। যখন ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে, তখনই ১২ শ কোটি টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন বুকিং দিয়েছি। আমি জানি তারা যদি সফল না হতো আমাদের টাকাটা নষ্ট হতো। কিন্তু আমি দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়েছিলাম।
এ সময় তিনি বলেন, দেশের শান্তিপূর্ণ অগ্রগতি অনেকের পছন্দ হচ্ছে না বলেই নানা কথা বলছে। ধারাবাহিকভাবে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই বাংলাদেশের উন্নতি সম্ভব হচ্ছে, উন্নয়নশীলে দেশের মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসসম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো সঙ্গে কোন সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়।
চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিলাসিতা পরিহার করে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে আবারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে গম আমরা ২০০ ডলারে কিনতে পারতাম আজকে সেটা ৫০০-৬০০ ডলারে কিনতে হচ্ছে। যে পরিবহন খরচ মাত্র ৮০০ ডলারা ছিল, তা এখন ৩৮ শ ডলারে আনতে হচ্ছে, কিন্তু আমরা এখানে কোনো কার্পণ্য করিনি। আমাদের ডলার খরচা করতে হয়েছে, রিজার্ভ খরচা করতে হয়েছে আমরা করেছি। তারপরও আমাদের আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে, বিনিয়োগ হচ্ছে। আমাদের ফসল উৎপাদন হচ্ছে। আমরা সার থেকে শুরু করে সবকিছু আমাদের কৃষকদের কাছে খুবই স্বল্পমূল্যে দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমার আহ্বানটাই সকলের কাছে যার যেখানে যতটুকু জায়গা আছে সবাই যা পারেন কিছু উৎপাদন করেন। নিজের খাবারের জোগাড় নিজে করেন। কারণ বিশ্বব্যাপী যে মন্দাটা দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে খাদ্য মন্দাটা সেটা যেন আমাদের দেশে না হয় সেজন্য।
