বাংলা থিয়েটারের দেড়শো বছর

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৪০ এএম

নিয়মিত কলাম লেখার একটা সমস্যা আছে। চাপা উত্তেজনা কাজ করে, কী লিখব না লিখব তাই নিয়ে। এখন ফুটবল নিয়ে সারা বিশ্ব টগবগ করে ফুটছে। একবার মনে হলো এই নিয়েই লিখি। কিন্তু হঠাৎই মনে পড়ে গেল বাংলা থিয়েটারের দেড়শো বছর নিয়ে লেখাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষ করে আমরা যারা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা, তাদের কাছে তো বাংলা ভাষা শিল্প-সাহিত্য দিনকে দিন যেভাবে কোণঠাসা হচ্ছে, সেখানে নাটকের দেড়শো বছর চর্চা জরুরি।

কলকাতা শহর গড়ে তোলার পেছনে বিদেশিদের ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না। সুতানুটি, কলকাতা ও গোবিন্দপুর তিনটে গ্রাম থেকে নগরায়ণের সূচনা নিশ্চিত ইংরেজ বণিকদের হাত ধরে। তবে এই শহরের নিজস্ব আইডেন্টিটি গড়ে ওঠার পেছনে পর্তুগিজ, আর্মেনীয়, ফরাসি, এমনকি রাশিয়ানদের ভূমিকাও কিছু কম ছিল না। রুশ নাগরিক লেবেদেফের উদ্যোগেই জন্ম নিয়েছিল প্রথম পেশাদার রঙ্গমঞ্চ। এখনকার কলকাতার এজরা স্ট্রিটে ১৭৯৫ সালের ২৫ নভেম্বর তখনকার ডোম তলার জগন্নাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাসা ভাড়া নিয়ে লেবেদেফ সাহেব জন্ম দিয়েছিলেন ‘বেঙ্গলি থিয়েটার’-এর। তিনশো আসনের এই হলে লোকে টিকিট কেটে নাটক দেখেছিলেন। তবে দুটি মাত্র শো-এর পরে বন্ধ হয়ে যায় প্রথম পেশাদার রঙ্গমঞ্চ। বলা হয় আগুন লেগে পুড়ে গিয়েছিল পুরো হলটি। ওই ধাক্কা সাহেব আর সামলাতে না পেরে সব বন্ধ করে দেশে ফিরে যান বাধ্য হয়ে। কেউ কেউ আবার মনে করেন ইংরেজরা জোর করে বন্ধ করে দেয় থিয়েটার হলটি। লেবেদেফকে নানাভাবে হেনস্তা করে রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু প্রশ্ন উঠবে কী কী কারণ থাকতে পারে থিয়েটার বন্ধ করার! হতে পারে নব্য বেনিয়া ইংরেজরা অন্য কোনো বিদেশির ভালো কাজ মানতে পারেনি। হতে পারে থিয়েটারের মধ্য দিয়ে সাধারণ লোক যদি শিক্ষিত, সচেতন হন তা মোটেও পছন্দ ছিল না ইংরেজদের। যাই হোক, অজ্ঞাত কারণে অল্প দিনের মধ্যেই লেবেদেফ সাহেবের যাবতীয় কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেল। তবুও এটা ঠিক যে ইতিহাস থেকে কোনোদিনই তিনি মুছে গেলেন না। বাংলাদেশের হায়াৎ মামুদের চমৎকার এক গবেষণা গ্রন্থ আছে লেবেদেফ নিয়ে।

আমরা বড় হওয়ার পর থেকে তিন ধারার নাটক সম্পর্কে শুনেছি। পেশাদার থিয়েটার। গ্রুপ থিয়েটার। আর বাদল সরকারের থার্ড থিয়েটার। এখন আরও নতুন নতুন ইনটিমেট বা ঘনিষ্ঠ আরও কত শব্দ শুনছি। একটা সময় ছিল যখন কফি হাউজে আমাদের চর্চার বিষয় ছিল স্তানিসøাভস্কির নাটক বনাম ব্রেখটীয় ধারা। পরে, যখন বেশ বাম রাজনীতির মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয়, তখন ব্রাজিলের অগুস্ত বেবেল বা গ্রটভস্কি আমাদের আলোড়িত করেছে। তারও অনেক আগে নবনাট্ট, গণনাট্য এসব তো ছিলই। হাতী বাগান পাড়ার বাণিজ্যিক থিয়েটার নিয়ে আমাদের বেশ একটা নাক উঁচু ভাব ছিল। ঘোর ক্যাপিটালিজম-বিরোধী আমরা কীভাবে পয়সা লগ্নির নাটককে মেনে নেব! তারপর সত্তর দশকে কলকাতা যখন অগ্নিগর্ভ, দেয়ালে দেয়ালে চীনের চেয়ারম্যানকে আমাদের চেয়ারম্যান বলে সত্তর দশককে মুক্তির দশক হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তখন ওই সব পেশাদার মঞ্চে ক্যাবারে নাচ সংযোজিত হচ্ছে। রাজা বাজারের প্রতাপ মেমোরিয়াল হলে বারবধূ নাটকে মিস শেফালীর নাচ চলাকালীন একবার বোধহয় কে বা কারা বোমাও ফেলেছিল। মোদ্দা কথা হাতী বাগান পাড়ার নাটক ছিল আমাদের মতো আদর্শবাদী কিশোর তরুণদের কাছে বিষবৎ পরিত্যাজ্য।

গণনাট্য কীভাবে গ্রুপ থিয়েটার হয়ে গেল তা এখনো আমার কাছে খুব পরিষ্কার নয়। যদিও মোটামুটিভাবে দুজনের দৃষ্টভঙ্গিতে মিল ছিল। দুই গোষ্ঠীই আদর্শের কথা, ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা বলত। ফর্মের কিছু পার্থক্য অথবা পরিচালকের স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গি বোধহয় গ্রুপ থিয়েটারের সঙ্গে পুরনো গণনাট্যের পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল। কমিউনিস্ট পার্টির ভাঙনও দুই ধারার তফাৎ গড়ার  পেছনে একটা কারণ। গ্রুপ থিয়েটারে তখন জোয়ার এসেছে। অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিভাস চক্রবর্তী, অরুণ মুখোপাধ্যায় দাপটে মঞ্চে অভিনয় করে চলেছেন। উৎপল দত্ত তো ছিলেনই। আমার কাকা জোছন দস্তিদার একের পর এক নাটকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি ছিলেন শম্ভু মিত্র। খালেদ চৌধুরীর স্টেজ ও তাপস সেনের আলো বাংলা থিয়েটারের সম্পদ। মায়া ঘোষ, তৃপ্তি মিত্র, কেয়া চক্রবর্তী বা চন্দ্রা দস্তিদারের মতো অভিনেত্রীর অভিনয় মনে পড়লে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। অজিতেশের তিন পয়সার পালা, ভাল মানুষ, জোছন দস্তিদারের কর্নিক বা অমর ভিয়েতনাম কিংবা পরবর্তী সময়ে রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের ফুটবল এখনো চোখে ভাসে। অরুন্ধতী মারীচ সংবাদ কি ভোলা যায়! উৎপল দত্তের অঙ্গার, ফেরারি ফৌজ, কল্লোল তো আজ ইতিহাস।

মঞ্চনাটকের রমরমা কালে এক বাঙালি ইঞ্জিনিয়ার নতুন আঙ্গিকে থিয়েটার করে আমাদের মুগ্ধ করে দিলেন। তিনি বাদল সরকার। তার থার্ড বা তৃতীয় থিয়েটার মাঠে-ঘাটে, শিল্প তালুকে, বস্তিতে মঞ্চের বাইরে ছোট পরিসরে গ্রুপ থিয়েটারের অনেক সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে সাধারণ জনতার মন জয় করে নিল। বাদল সরকারের নাটকের বৈশিষ্ট্য হলো যে আলো, পোশাক, স্টেজ ক্রাফট, প্রপস ছাড়াই এ নাটক সরাসরি মানুষের সঙ্গে কমিউনিকেট করতে পারত। তিনি বলতেন মঞ্চে যে নাটক সেখানেও পুঁজির প্রয়োজন। থার্ড থিয়েটার গরিবের হাতিয়ার। একটা সময় গ্রুপ থিয়েটারের সঙ্গে থার্ড থিয়েটারের বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যা কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে অশালীন ভাষার প্রয়োগে কদর্য ব্যক্তিবিদ্বেষে রূপ নেয়। বাদল সরকারকে সিআইএর এজেন্ট বলেও কটূক্তি শুনতে হয়েছিল। এ এমন সময়ের কথা, যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দুই বামপন্থি ধারার প্রবল আকচা-আকচি। সিপিআই-এম বনাম নকশালপন্থিদের রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিরোধ সংস্কৃতি জগৎকেও ভাগ করেছিল। অঘোষিতভাবে গ্রুপ থিয়েটার হয়ে পড়েছিল সিপিআই-এম অনুসারী। অন্যদিকে থার্ড থিয়েটার নকশালপন্থিদের সমর্থন পেয়ে উজ্জীবিত ভূমিকায় মাঠে-ঘাটে নাটক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কী সব নাটক বাদল সরকার করে গেছেন! ভোমা, স্পার্টাকাস, বাকি ইতিহাস, সুখপাঠ্য ভারতের ইতিহাস এসব নাটকের কথা ভাবলে আজও গায়ে কাঁটা দেয়।

স্টার, বিশ্বরপা, রঙ্গনা, কাশি বিশ্বনাথ মঞ্চ সবমিলিয়ে যে পেশাদার রঙ্গমঞ্চ তাতেও একটা সময় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়দের হাত ধরে গা থেকে অশ্লীল শব্দ মুছে আমাদের মতো ‘আঁতেল’দের টানতে লাগল। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম জীবন দেখেছি মুগ্ধ হয়ে। তখন ঘটনাচক্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা নিবিড়। ফলে অনেক সময় রিহার্সাল দেখতেও চলে যেতাম। সৌমিত্র দা ছিলেন শিশির ভাদুড়ীর অন্ধ ভক্ত। বলতেন শিশিরবাবু বা প্রভা দেবী যদি বিদেশে থাকতেন তবে আন্তর্জাতিক মহল ধন্য ধন্য করত। অথচ সত্যিই বাঙালির দুর্ভাগ্য শিশির ভাদুড়ীর মতো ব্যক্তিত্ব মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায়কে অবধি অনুরোধ করেও একখ- জমি পাননি, নিজস্ব রঙ্গমঞ্চ করার জন্য।

এখন করপোরেট পুঁজি বাংলা নাটকে ঢুকে পড়ছে। থিয়েটারের টিকিটের দাম বাড়ছে ১০০০, ৫০০ টাকা। বিপণন ভালো হলে সেই নাটক দেখতে মানুষ ছুটছে। নাটক এখন প্রোডাক্ট। তাকে পরিবেশন করতে পারা আর্ট। নাটকের মান যাই হোক প্যাকেজিং ঠিকঠাক না হলে মুশকিল। নব্বই দশকের পরে নতুন অর্থনীতি আমাদের সমাজে যে নিও-এলিটদের তৈরি করেছে তাদের অধিকাংশই বেশি দামের টিকিট কেটে হলে যাচ্ছেন। হলের বাইরে দামি গাড়ির সারি দেখলে বোঝা যায় আমাদের থিয়েটারে ক্রমেই হাতী বাগান পাড়া আর গ্রুপ থিয়েটারেও মৌলিক পার্থক্য কমছে। তথাকথিত আদর্শের ধার না ধরে নাটক হয়ে পড়ছে মুনাফার অন্যতম ক্ষেত্র। এই কোম্পানি থিয়েটারের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল পুঁজি লগ্নির ওপর। এও এক ধরনের পেশাদারি মনোভাব। ফলে আপনি আজকের এই অর্থনৈতিক মন্দার যুগে থিয়েটারকে জীবিকা হিসেবে নেওয়াকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিতেও পারবেন না। কিন্তু ষাট-সত্তর দশকে গ্রুপ থিয়েটার কর্মী বলতে যে উষ্কোখুষ্কো, কাঁধে ঝোলা, উড়নচ-ি টাইপ চেহারা তা ভুলেও খুঁজতে যাবেন না।

কোম্পানি থিয়েটারের যুগে পুরনো নাটকের হল নিয়ে পরিক্রমা মন্দ হবে না। ড্রামা ট্যুরিজম বা হেঁটে দেখুন অতীতের থিয়েটার এসব নাম দিয়ে থিয়েটার নস্টালজিয়া চলবে ভালোই। এজরা স্ট্রিটের লেবেদেফকে পাওয়া যাবে না। কিন্তু শ্যামবাজার ট্রাম ডিপো দেখুন। ওখানেই নবীন বসুর বাড়িতে প্রথম ঘূর্ণায়মান বা রিভলভিং থিয়েটার হয়েছিল। বিদ্যাসুন্দর। আর একটু হেঁটে বাগবাজারে গেলে পাবেন ভুবন বসুর পুরনো থিয়েটার। এখন সেখানে গাড়ির গ্যারেজ। দুপা দূরে বাংলা থিয়েটারের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব গিরীশচন্দ্র ঘোষের বাড়ি এখনো আছে। বিডন স্ট্রিটের পোস্ট অফিস ছিল বেঙ্গলি থিয়েটার। যেখানে প্রথম নটি বিনোদিনী অভিনয় করেছিলেন। স্টার থিয়েটারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে নটি বিনোদিনী’র নাম জড়িয়ে রয়েছে। তিনি বাস করতেন হাতী বাগান স্টার থিয়েটারের পাশের গলিতে। কিন্তু গুর্মুখ রায় বলে যে অবাঙালি ব্যবসায়ীর টাকায়, বিনোদিনীর শরীরের বিনিময়ে যে স্টার তার আদি মঞ্চটি ছিল বিডন স্ট্রিটের মোড়ে। সেন্ট্রাল এভিনিউ তৈরির সময় সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। চিৎপুর রোডের মল্লিকবাড়ি ছিল ন্যাশনাল থিয়েটার। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িকেও বাদ দেওয়া যাবে না আমাদের এই থিয়েটার পরিক্রমায়। এখন যে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ। আগে সেটাই ছিল সাঁসুসি থিয়েটার। দাপুটে অভিনেত্রী এস্থার লিচ নাটক করতে করতে স্টেজে আগুন লাগায় পুড়ে মারা যান। তারপর হলটি বন্ধ হয়ে যায়।

এরকম কত মণিমুক্তো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আজও রয়ে গেছে কলকাতায়। কজন আর সে সব খোঁজ করি! বাংলা থিয়েটারের ১৫০ বছরে আরও কত আলোচনা হবে। সেই আলোচনায় একদা সোনাগাছি বেবুশ্যে মহল্লার মেয়েরা যেভাবে থিয়েটার করতে এসেছিলেন তা নিয়ে কজন আর চর্চা করব! তারা সবাই কি শুধু পয়সার জন্য আসতেন না ভালোবেসে যোগ দিতেন নাটকে? একদা হাফ আখড়াই, কবিগান, যাত্রা, তড়জার সংস্কৃতির শহর ধীরে ধীরে কত মানুষের ত্যাগ, সাধনা, নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলা থিয়েটারের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা ভাবলে সত্যিই শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। বেলগাছিয়া ভিলার দিকে এখন কেউ সেভাবে ফিরেও তাকায় না। অথচ একদিন মাইকেল মধুসূদন দত্ত সেখানে থিয়েটারকে অন্য মাত্রা দিয়েছিলেন। ১৮৫৮ সালে তার ‘শর্মিষ্ঠা’ ও পরে ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ বাংলা নাটকের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

কবি ও নাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায় প্রায়ই বলতেন, ‘নাটক শেষ হয়ে গেলে, ধীরে ধীরে যখন পর্দা নেমে আসে, বুকের ভেতরটা কেমন চিনচিন করে ওঠে। আবার, আরও একবার পর্দা উঠবে, হাততালির আওয়াজে মুখরিত হবে মঞ্চ এই ভাবনা পেয়ে বসে। হবে তো আবার নতুন নাটক!’ মোহিত চট্টোপাধ্যায় চলে গেছেন। বাংলা নাটক থেকে গেছে। কত কত তরুণ আজও স্বপ্ন দেখছেন নতুন কিছু করার। নাটকের কোনো ভূগোল হয় না। সে আন্তর্জাতিক। দেশে দেশে সে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে নিশ্চয়ই এগোবে। ওই নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই এগোবে। আসুন, আমরা করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানাই।

লেখক : ভারতীয় প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও লেখক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত