মানিকগঞ্জ তথা সিঙ্গাইর থেকে ঢাকার প্রবেশ মুখে পুলিশের তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান চেকপোস্ট এলাকা পরিদর্শনে এসে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে ধল্লা চেকপোস্ট এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শহিদ, ধল্লা ইউনিয়ন ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম ভূইয়া এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খানের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মীকে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তারা বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। যেকোনো ধরনের নাশকতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রের নির্দেশে তারা সতর্ক অবস্থানে আছেন বলে জানান।
সরেজমিন দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর - মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ধল্লা ভাষা শহীদ রফিক সেতুর পশ্চিম পাশে পুলিশ চেকপোস্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সদস্য সংখ্যাও। চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় রাজধানীমুখী বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে।
চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিঙ্গাইর থানার এস আই দীপংকর বলেন, ঢাকার প্রবেশ পথ সিঙ্গাইরের ধল্লায় নিয়মিত তল্লাশি হয়ে থাকে। আমার ডিউটি পরেছে তাই ডিউটি করছি। সব গাড়িকে তল্লাশি করা হচ্ছে না। সন্দেহ হলেই তল্লাশি করছি।
তবে পুলিশ সুপার বলেন, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে চেকপোস্টের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি। ১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ধরতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। ধল্লাসহ জেলার আরো কয়েকটি স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ঢাকায় ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি দেশব্যাপী নাশকতার পরিকল্পনা করছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। ধল্লা চেকপোস্ট এলাকায় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের এ অবস্থান চলবে।
এ ব্যাপারে সিঙ্গাইর থানা ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা বলেন, এসপি স্যার নিয়মিত সিঙ্গাইর আসেন। আজও এসেছিলেন। কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে চেকপোস্টের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি। চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি হয়ে থাকে।
এর আগে গত ২৬ নভেম্বর রাত উপজেলার সিঙ্গাইর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে ককটেল নিক্ষেপ, সিএনজি অটোরিকশায় আগুন ও ৩০ নভেম্বর রাতে গাজিন্দা গ্রামের জনৈক হানিফের ভিটা সংলগ্নস্থানে পাকা রাস্তার ওপর ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এ দুই ঘটনায় বিএনপির ৪০-৫০ জনকে আসামি করে সিঙ্গাইর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
