১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় নেতাকর্মীদের ভিড়ে জমজমাট থাকলেও সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে। দিনভর নেতাকর্মীদের কোনো দেখা মেলেনি সেখানে। অপরদিকে টঙ্গীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় শতশত নেতাকর্মীর গগনবিদারী সেøাগান এবং মিছিলে মুখরিত ছিল দিনভর। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জয়দেবপুর শহরে গাজীপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির কার্যালয় এবং সন্ধ্যায় টঙ্গীতে আওয়ামী লীগদলীয় কার্যালয় ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির এক নেতা জানান, আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ হয়রানি করছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে নেতাকর্মীরা বাড়িঘরছাড়া। তা ছাড়া পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির এটি একটি কৌশল। দলীয় কার্যালয় দিনভর পুলিশ ঘেরাও করে রাখে। সেখানে নেতাকর্মীরা গেলে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু দলীয় কার্যালয় খোলা থাকছে। দলীয় মহাসচিব গ্রেপ্তার হলেও নগরীতে তেমন কোনো কর্মসূচি ছিল না বিএনপির।
দলটির অপর এক নেতা জানান, ইতিমধ্যে গাজীপুর থেকে আমাদের কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিভিন্নভাবে ঢাকায় প্রবেশ করেছে। তারা দলীয় কর্মসূচি সফল করে ঘরে ফিরবে।
অপরদিকে বিএনপির সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। গতকাল বিকেলে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই মতিউর রহমান মতির নেতৃত্বে একটি মিছিল টঙ্গী নতুন বাজার দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়। মিছিলটি টঙ্গী স্টেশন রোড ও টঙ্গী বাজার ঘুরে ফের দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলটিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী যোগ দেয়।
পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কাউন্সিলর নূরুল ইসলাম নূরু, নাসির উদ্দিন মোল্লা, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন মোল্লা, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান বাবু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিএনপি ঢাকায় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তাদের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবে। যে কোনো প্রকার অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
