চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের জেলেরা বঙ্গোপসাগরে হাঙর ও শাপলাপাতা শিকারে ঝুঁকে পড়ছেন। গভীর সাগরে বড়শি ও জাল দিয়ে নির্বিচারে শিকার করা হচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে বাচ্চা হাঙর ও শাপলাপাতা। এগুলোর পাশাপাশি মানব শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পটকা মাছেরও শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে। এসব নিষিদ্ধ মাছের শুঁটকি পাঠানো হচ্ছে বিদেশে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হাঙর ও শাপলাপাতা মাছের অর্ধেকের বেশি প্রজাতি অতিরিক্ত আহরণ ও নিধনের ফলে বর্তমানে হুমকির সম্মুখীন। ফলে বন্যপ্রাণী আইনে এ ধরনের বিপন্ন প্রজাতিগুলোকে সুরক্ষা দিতে হালনাগাদ তালিকায় হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরেজমিনে আনোয়ারা উপকূলের গরিরা প্যারাবন এলাকায় দেখা গেছে, মাচার ওপর সারি সারি হাঙর শুঁটকি শুকাতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রয়েছে শাপলাপাতা ও পটকা মাছ।
শুঁটকি উৎপাদন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, বিভিন্ন ট্রলার থেকে কিনে বাচ্চা হাঙর শুঁটকি করা হচ্ছে। হাঙর, শাপলাপাতা ও পটকা মাছের শুঁটকি তৈরি করে বিক্রির জন্য চট্টগ্রাম শহরে পাঠানো হয়। বাচ্চা হাঙরের শুঁটকি প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় আর বড় হাঙরের শুঁটকি ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। শাপলাপাতার শুঁটকির দামও ভালো পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, অন্য মাছের চেয়ে হাঙর, শাপলাপাতা মাছের ভালো দাম পাওয়া যায়। হাঙরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জেলেরা অধিক উৎসাহ নিয়ে হাঙর শিকার করছেন। শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, বিদেশে হাঙরের শুঁটকি, তেল, চামড়া, দাঁত, কান, পাখা, হাড়সহ সবই চড়ামূল্যে বিক্রি হয়।
ব্যাপকভাবে হাঙর ও শাপলাপাতা নিধনের কারণে সামুদ্রিক প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সামুদ্রিক মাছের ডিম থেকে লক্ষ-কোটি পোনা হলেও হাঙর ব্যতিক্রম। ১০ থেকে ১২ বছরে হাঙর পূর্ণবয়স্ক হয় এবং ২ থেকে ১৬টি বাচ্চা দেয়। এ কারণে হাঙরের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে না। কিন্তু মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়ে হাঙর বিলুপ্ত হচ্ছে। যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী, হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ হত্যা ও কেনাবেচা দন্ডনীয় অপরাধ। এতে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
সম্প্রতি প্যারাবন এলাকায় উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও বন বিভাগর যৌথ অভিযান চালায়। এসময় প্রায় ৩০ মন হাঙর, শাপলাপাতা ও পটকা মাছের শুঁটকি জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়।
উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হক বলেন, ‘প্যারাবন সংলগ্ন শঙ্খনদের মোহনায় লোকচক্ষুর আড়ালে পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী হাঙর ও শাপলাপাতা এবং মানব শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পটকা মাছ শুঁটকি করা হচ্ছে। খবর পেয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি।’
