আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১০ ডিসেম্বরে ব্যর্থ হয়ে গন্ডগোল পাকানোর জন্য আগামী ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলনের দিন গণমিছিল কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।
বিএনপিকে ওই কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের মাঠে (পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠ) ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের তেজগাঁও জোন আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব বলেন ওবায়দুল কাদের।
২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের দিনে বিএনপির গণমিছিল কর্মসূচি দেওয়ায় দলটির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেদিন কেন তাদের কর্মসূচি আমি জানতে চাই, প্রত্যাহার করুন। সংঘাতের উসকানি দেবেন না। আমরা দুই মাস আগে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করেছি। ওই দিন গণমিছিল করার অর্থ হচ্ছে সংঘাতের উসকানি দেবে। ১০ তারিখে ব্যর্থ হয়ে ২৪ তারিখে গন্ডগোল পাকানোর চক্রান্ত করছে বিএনপি। এটা প্রতিহত করতে হবে।
গত ১০ ডিসেম্বর গোলাপবাগ মাঠে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে ১০ দাবি ঘোষণা করে বিএনপি। দাবি আদায়ে ২৪ ডিসেম্বর দেশের জেলা ও মহানগরে গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে নিষেধাজ্ঞা দিতে তদবির করতে গেছেন, আমির খসরু সাহেব কী পেলেন! যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ২০টি দেশের ৭০ এমপি-মন্ত্রীদের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশ নেই। আমির খসরুর মিশন ব্যর্থ। ১০ ডিসেম্বরের মিশনও ব্যর্থ।
তিনি বলেন, বিএনপির ১০ ডিসেম্বর ভুয়া, সরকারের পতন ভুয়া, বিজয় মিছিল ভুয়া, তারেকের আগমন ভুয়া।বেপরোয়া চালকের মতো রাজনীতির বেপরোয়া চালক হচ্ছে বিএনপি। তারা কখন, কোথায় দুর্ঘটনা ঘটায় সেটাই চিন্তার বিষয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম জিয়া বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক পাগল-শিশু ছাড়া কেউ বুঝে না। আমরা তার কথা মানি। কথা সত্য। ধন্যবাদ জানাই এই কথা বলার জন্য। বিএনপি কেন উল্টো চলে? বিএনপি যে দেশের কাছে নালিশ করেছে তাদের দেশেও তত্ত্বাবধায়ক নেই। আদালত এটা নাকচ করে দিয়েছে। মৃত ইস্যুকে জীবিত করার চেষ্টা করছে বিএনপি। সেটা হবে না।’
বিএনপিকে আর ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতার হারানো ময়ূর সিংহাসন ফিরে পেতে বিএনপি পাগল হয়ে গেছে। এ পাগলকে ঠান্ডা করতে হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ যাওয়ায় তার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, অলি সাহেব ওদের (বিএনপি) অফিসে পুলিশ ঢুকে হামলা করে নাই। আপনি যে কথা বলছেন, সেটা মিথ্যা। পুলিশের ওপর বোমা নিক্ষেপের পরে বোমা উদ্ধারে তাদের অফিসে গিয়েছে।
বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা হয়েছিল বলে তার চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
আওয়ামী লীগ কখনো ষড়যন্ত্র ও পেশিশক্তিকে বিশ্বাস করে না বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি বলেন, আমরা জনগণের রায় নিয়ে চলছি। জনগণের সমর্থনে রাজনীতি করি।
১০ ডিসেম্বর বিএনপির গণসমাবেশের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার পরও তারা নির্দিষ্ট একটি স্থানে সমাবেশের জন্য জোর করছিল। আমরা তাদের উন্মুক্ত মাঠে যেতে বলেছিলাম। তারপর তারা বাধ্য হয়ে সেখানে সমাবেশ করেছে। বিএনপি ষড়যন্ত্র করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বসে থাকবে না।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এর আগে ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের আওতাভুক্ত বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্র–সংলগ্ন পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে মিছিল সহকারে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তারা বিএনপি-জামায়াত বিরোধী নানা স্লোগান দেন।
বিএনপি-জামায়াত জোটের ‘নৈরাজ্যমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য মেলা মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ট্রাক দিয়ে মঞ্চ তৈরি করা হয়।
