২০২৫ সালের মধ্যে ধূমপানমুক্ত দেশ গড়তে নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে পাস হলো যুগান্তকারী আইন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে এই আইন পাস হয়। নতুন প্রজন্মের সুরক্ষায় ধূমপান নিষিদ্ধে বিশ্বের প্রথম আইন এটি।
নতুন আইন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারির পর যারা জন্মগ্রহণ করেছে তাদের কাছে কেউ তামাক বা তামাকজাত পণ্য বিক্রি করতে পারবে না। এ আইন না মানলে ৯৫ হাজার ৯১০ ডলার জরিমানা গুনতে হবে। সারা দেশে সিগারেট বিক্রির জন্য বৈধভাবে অনুমোদিত দোকানের সংখ্যা কমিয়ে ৬ হাজার থেকে ৬০০ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে প্রতি দেশটিতে ক্রমান্বয়ে তামাক কিনতে সক্ষম লোকের সংখ্যা শুন্যে নেমে আসবে। নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আয়েশা ভেরাল বলেন, এটি ‘ধূমপানমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে’ একটি পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, আইনটি বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘজীবী হবে এবং স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করবে। ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগ-বালাই যেমন, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, অঙ্গচ্ছেদের চিকিৎসার প্রয়োজন না হওয়া থেকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অন্তত ৫০০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে।
এরইমধ্যে নিউজিল্যান্ডে ধূমপানের হার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। নভেম্বরে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ৮ শতাংশ দৈনিক ধূমপান করে, যা গত বছরের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, স্মোক ফ্রি এনভায়রনমেন্ট বিলের কারণে ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যাটি ৫ শতাংশে নেমে আসবে। বিলটি এমনভাবে করা হয়েছে যাতে দেশব্যাপী তামাকজাত পণ্যের বিক্রি কমে আসে।
তবে, নতুন আইনে ‘ভ্যাপ’ পণ্য বা ইলেকট্রনিক সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়নি, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সিগারেটের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
