মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেছেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুধু ভূখণ্ড বা জাতিসত্তার স্বাধীনতার জন্য ছিল না। তাতে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির স্পৃহা অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল’।
শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে বিজয় দিবসের স্মৃতিচারণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পাকিস্তান শাসনামলে এ দেশে প্রগতিশীল সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশে খড়গময় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফরাসি চিন্তাবিদদের দর্শন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে চিত্রায়িত করে। সরকারের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে ছিল অত্যন্ত দমন-পীড়নমূলক। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বের নানা প্রান্তে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছিল।
তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এদিনে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শেকল ভেঙে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেয়।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের স্মরণে এ দিবসটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করা হয়। এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ভবনসহ অন্যান্য ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টা থেকে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের নেতৃত্বে শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি এবং বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় দুই উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অনুষদ অধিকর্তা, হল প্রাধ্যক্ষ, ইনস্টিটিউট পরিচালক ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
এদিন সকাল পৌনে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে খেলাধুলা ও সাড়ে নয়টায় শেখ রাসেল মডেল স্কুল মাঠে আনন্দ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য এসব আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করেন। এরপর সকাল ১০টায় শাবাশ বাংলাদেশ চত্বরে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, রেঞ্জারের প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে স্মৃতিচারণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সহযোগীদের অমৃতের পুত্র উল্লেখ করে বলেন, এসব ক্ষণজন্মা মনীষী ক্ষণিকের জন্য পৃথিবীতে এসে প্রভা ছড়িয়ে গেছেন। তাদের আলোয় আমরা আলোকিত হচ্ছি। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এসব নেতা মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। একটি জাতির ইতিহাসে ভাষা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সেটা বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন। বিভিন্নভাবে পরিবেশ-পরিস্থিতির বিশ্লেষণে তিনি ‘প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের’ সঙ্গে বাঙালির স্বাধীনতার স্পৃহাকে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পথে ধাবিত করেছিলেন।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. অবায়দুর রহমান প্রামানিক।
এ ছাড়া বাদ জুমা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন খানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা এবং সাড়ে ৬টায় শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
