সরাইলের আরিফাইল মসজিদ

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:১৩ পিএম

মুঘল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘আরিফাইল মসজিদ’। ১৬৬২ ঈসায়ী সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরিফাইল গ্রামে অপরূপ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয় মসজিদটি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড অংশের কাছেই এর অবস্থান। সরাইল উপজেলা চত্বর থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পশ্চিমে মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদটির আয়তনে ৭০ ফুট বাই ২০ ফুট। দেয়ালের পুরুত্ব ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। প্রাচীন স্থাপত্যকলা ও অপূর্ব নির্মাণশৈলীর মসজিদটি দেখতে অনেকটা তাজমহলের মতো মনে হয়। সাড়ে ৩০০ বছরের বেশি সময় আগে নির্মিত মসজিদটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের একটি। বাংলাদেশ সরকারের প্রতœতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের অধীনে মসজিদটি প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষিত। মসজিদটিকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এখানে আসেন বলে স্থানীয়রা জানান।

মসজিদের পাশে অবস্থিত বিশাল আয়তনের একটি দিঘি মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়রা এ দিঘির নামকরণ করেছেন ‘সাগরদিঘি’। মসজিদটির দক্ষিণে রয়েছে দুটি কবর, যা ‘জোড়া কবর’ বা ‘রহস্যময় কবর’ নামে পরিচিত। কবর দু’টিতেও মুঘল স্থাপত্যকলা ও অপূর্ব নির্মাণশৈলীর প্রভাব বিদ্যমান। মসজিদের পাশে অবস্থিত জোড়া কবর নিয়ে রয়েছে অনেক জনশ্রুতি ও কল্পকাহিনী।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, একসময় ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী ছিল সরাইল এবং বারোভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর শাসন ছিল এখানে। ঈশাখাঁ আরিফাইল মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী জোড়া কবর নির্মাণ করেন। অনেকের ধারণা ঈশাখাঁর দুই স্ত্রী ইন্তেকাল করলে তাদের মসজিদের পাশে কবর দেওয়া হয়। পরে কবর দুটির সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়। কবর দুটি পাশাপাশি হওয়ায় পরবর্তী সময়ে ‘জোড়া কবর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

আবার অনেকে বলেন, কবর দুটির প্রকৃত তথ্য অনাবিষ্কৃত। কবর দুটির নিচের দিকে রয়েছে একটি গভীর সুড়ঙ্গপথ যার শেষ কোথায় কারও জানা নেই। ভয়ে ও অন্ধবিশ্বাসের কারণে কেউ সুড়ঙ্গের শেষ আবিষ্কার করার চেষ্টা করে না বলে তা এখনো রহস্যময় রয়ে গেছে।

এ ছাড়া মসজিদের দেয়াল অতি পুরু হওয়ার কারণে ভেতরের যেকোনো শব্দ দেয়ালে বাধা পেয়ে একটা ভৌতিক প্রতিধ্বনির সৃষ্টি হয়। এই প্রতিধ্বনিকে অনেকেই গায়েবি কোনো আলামত মনে করেন। সাধারণ মানুষের এই অন্ধবিশ্বাসের সুযোগে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি মাজার ব্যবসা শুরু করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পর্যটকদের কাছে এই অসাধু চক্রটি তাবিজ-কবজ বিক্রির পাশাপাশি তাদের এখানে মানত করতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে অনেকেই অন্ধ বিশ্বাসে আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের উদ্দেশ্যে টাকা, ছাগল ও মোরগসহ বিভিন্ন মানত নিয়ে এখানে আসে। সরাইলের কিছু প্রভাবশালী লোক ভাগবাটোয়ারা করে এসব নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ভণ্ডদের তৎপরতা বন্ধে চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

তবে এসবের সঙ্গে মসজিদের ইমাম, মুসল্লি কিংবা প্রকৃত দীনদার কোনো মানুষের সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিদিন আরিফাইল মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের সুর- ‘হাইয়া আলাস্ সালাহ’। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসল্লি নিয়ে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এ মসজিদে। আর জুমার দিন থাকে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত