গ্রেপ্তার আতঙ্কে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাড়িছাড়া

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:১৭ এএম

বিএনপির চলমান আন্দোলনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় পুলিশের অভিযান বেড়েছে। গত কয়েকদিনের মধ্যে অন্তত ২৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফুজ্জামান শরীফসহ বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তারের পর সবার মধ্যেই এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যে কাউকে আটক করা হতে পারে এমন শঙ্কা কাজ করছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। গ্রেপ্তার এড়াতে অধিকাংশ নেতাই আত্মগোপনে চলে গেছেন। প্রয়োজন ছাড়া কেউ প্রকাশ্যে আসছেন না। বিএনপি নেতাদের দাবি, আন্দোলন বানচাল করতে জেলার সক্রিয় নেতাদের টার্গেট করে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে।

জানা যায়, পুলিশের ধরপাকড়ে গেল কয়েকদিনে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের সবাইকে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে দলের কয়েকশ নেতাকর্মীকে। এসব আসামিকে গ্রেপ্তারে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার অভিযোগ, সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় মধ্যম সারির নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে পারেন এমন নেতাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তারের টার্গেট করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে মামলা। ইতিমধ্যে থানা ও এলাকাভিত্তিক এসব নেতাকর্মীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেটা ধরেই চলছে অভিযান।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় তিন সপ্তাহে বিএনপির ২৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ ৮ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে। গত ৮ ডিসেম্বর দর্শনা থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয় বিএনপির ৮ নেতাকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে করা নাশকতার মামলায় আসামি করা হয় ২৭ নেতাকর্মীকে। অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে। গত ৭ ডিসেম্বর জেলার জীবননগর থানা পুলিশের অভিযানে ৭ বিএনপি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামি করা হয় দলটির ৩০ থেকে ৪০ নেতাকর্মীকে। গত ৩ ডিসেম্বর রাতে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে করা নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় দলের ৩৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয় ১০০ থেকে ১১০ জনকে।

আত্মগোপনে থাকা দলের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, রাতের বেলায় বাড়িতে বাড়িতে অতর্কিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কোনো কারণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে নেতাকর্মীদের। গ্রেপ্তার এড়াতে রাতে তারা বাড়িতে অবস্থান করছেন না। অনেকে জেলা ছেড়েও চলে গেছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘এ পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। অনেকের নামে একটা মামলাও নেই। কিন্তু পুলিশ হঠকারী সিদ্ধান্তে অন্যায়ভাবে তাদের বাড়ি থেকে তুলে আনছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি সবসময় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে। সেই কর্মসূচিকে বানচাল করতেই পুলিশ এমন আচরণ করছে।’

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘কাউকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শুধু তাদেরই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল গ্রেপ্তারকৃত সবাই নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা ছিল তাদের।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত