বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদ এক ভাগ মানুষের হাতে

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৪১ এএম

বিশ্বে ২০২০ সালের পর তৈরি হওয়া ৪২ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন সম্পদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ বা ৬৭ শতাংশের মালিকানা বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ মানুষের হাতে চলে গেছে। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের আগে গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অক্সফামের ‘সারভাইভাল অব দ্য রিচেস্ট’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ শীর্ষ ধনীর হাতে চলে যাওয়া এই সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৯৯ শতাংশের প্রাপ্ত সম্পদের প্রায় দ্বিগুণ। প্রতিবেদনে বিলিয়নিয়ারদের মুনাফার হারের কথাও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ধনকুবেররা প্রতিদিন গড়ে ২৭০ কোটি ডলার আয় করছেন। এর পাশাপাশি নিম্নআয় ও কর্মীদের দুর্দশার চিত্রও তুলে ধরা হয়। ১৭০ কোটি কর্মী মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

বিশ্বে বর্তমানে নিম্ন আয়ের কর্মীরা এমন সব দেশে বসবাস করছেন, যেখানে তাদের মজুরির হারের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি বেড়েছে। অক্সফাম বলছে, একই সময়ে বিশ্বের বিলিয়নিয়াররা যেসব দেশে বসবাস করছেন, সেসব দেশে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের ওপর তাদের সরাসরি কোনো কর দিতে হয় না। এর ফলে উত্তরসূরিদের কাছে বিলিয়নিয়াররা ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ রেখে যেতে পারবেন; যা পুরো আফ্রিকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চেয়েও বেশি।

আন্তর্জাতিক এই দাতব্য সংস্থা বলেছে, বিশ্বের শীর্ষ মাল্টি-মিলিয়নিয়ার ও বিলিয়নিয়ারদের ওপর ৫ শতাংশ কর আরোপ করা হলে তা বছরে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল হবে। আর এই অর্থ দিয়ে বিশ্বের ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা যাবে। অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক গ্যাব্রিয়েলা বুচার বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষ যখন খাবারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড়ে ভুগছেন, তখন অতি-ধনীরা তাদের সুপ্ত উচ্চাশাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। মাত্র দুই বছরের মধ্যে এই দশকটি বিলিয়নিয়ারদের জন্য সেরা দশকে পরিণত হতে চলেছে বিশ্বের অতি ধনীদের জন্য এটি ব্যাপক তর্জন-গর্জনের দশক।’  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত