দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশেই সবচেয়ে কম ব্যয় হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বাজেটবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বলা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে মোট জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ মাথাপিছু স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় কম হওয়ার কারণে জনগণকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশ (অর্থাৎ আউট-অফ-পকেট স্বাস্থ্য ব্যয়) বহন করতে হচ্ছে। এ জন্য স্বাস্থ্য খাতে পরিকল্পিতভাবে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো দরকার।
গতকাল সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ, ব্র্যাক জেমস পি. গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্নয়ন সমন্বয় যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
গ্রামাঞ্চলে যারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেন তাদের ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ কমাতে স্বাস্থ্য বাজেট বরাদ্দের ধারায় কী ধরনের পরিবর্তন দরকারÑ এ বিষয়ে গবেষণার ভিত্তিতে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৫ শতাংশের কিছু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বরাদ্দ যদি আরও ২-৩ শতাংশ বাড়ানো যায় এবং সেই বাড়তি বরাদ্দ যদি গ্রামাঞ্চলে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ ও সেবাকেন্দ্রে শূন্য পদে লোক নিয়োগ দিয়ে তাদের মজুরি ও বেতন বাবদ ব্যয় করা যায়, তাহলে জনগণের ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে আসবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুন-আল-রশীদ বলেন, বরাদ্দকৃত বাজেট ব্যয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দক্ষতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানতম প্রতিবন্ধক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. আবু ইউসুফ বলেন, ঢাকাসহ কয়েকটি বড় শহরে যে মানের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায় তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও পাওয়া গেলে জনগণেরও ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এসএম জুলফিকার আলী বলেন, স্বাস্থ্য ব্যয়ের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক সময়ই তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বলেন, জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে সুসমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
