বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সন্দ্বীপে ঘুষ ছাড়া মেলে না বিদ্যুৎ সংযোগ

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:১৪ এএম

২০১৮ সালে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। সংযোগের চার বছর অতিবাহিত হলেও এখন বিদ্যুতের মিটার সংযোগ পাওয়া যেন রীতিমতো সোনার হরিণ। সন্দ্বীপে বিদ্যুতের মিটার সংযোগ দিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল ও নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল ফাত্তাহ মো. মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার সংযোগ দিতে গত দুই বছরে এই দুজনের নামে অতিরিক্ত অন্তত পাঁচ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, চাহিদামতো অতিরিক্ত টাকা না দিলে মিটার মিলছে না গ্রাহকদের। বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের যোগসাজশে গ্রাহকদের কাছ থেকে এসব অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে একটি সিন্ডিকেট। প্রতিটি মিটার সংযোগে আবেদন ফি ও অন্যান্য খরচসহ সরকারি কোষাগারে ৭৬৮ টাকা জমা হলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মিটারপ্রতি অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা। পোস্টপেইড মিটারে সর্বসাকুল্যে মিটারসহ ২০৬৮ টাকা হলেও নেওয়া হতো ৬-৭ হাজার টাকা। প্রি-পেইড মিটারে সর্বসাকুল্যে মিটারসহ ৬৫৫৮ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা।

এদিকে, বিজয়ের মাসে সরকারের বিশেষ বরাদ্দে ৬০০ প্রি-পেইড মিটার এলেও কোনো মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার পায়নি এগুলো। এতে খরচ ৭৬৮ টাকা হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল ফাত্তাহ মো. মুস্তাফিজুর রহমান ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা করে বিক্রি করেছেন। এসব সরকারি মিটার থেকেই  আত্মসাৎ করেছেন প্রায় ২৪ লাখ টাকা। সিন্ডিকেটের চাহিদামতে টাকা দিতে না পারলে মিটার পাচ্ছেন না স্থানীয় নিম্ন আয়ের বাসিন্দারা।

সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি পিডিবি’র চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি গ্রাহক ও সংযোগ প্রত্যাশীরা।

অভিযোগকারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকা ছাড়া সন্দ্বীপে মিটার সংযোগ দেওয়া হয় না। সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের এমপি মহোদয়ের বদনাম হচ্ছে। আমরা চাই, অবিলম্বে অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলন-এর সভাপতি হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অর্জনকে বিতর্কিত করতে একটি চক্র কাজ করছে। সন্দ্বীপে বিদ্যুতের এই অফিসাররা তাদের উদাহরণ। আমরা চাই  ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল ফাত্তাহ মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও আবাসিক প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিলকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করে দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’

এ ব্যাপারে পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমার কিছু বলার নেই। আমার স্যার আছেন, তার সঙ্গে কথা বলেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল ফাত্তাহ মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিটি মিটার সংযোগ পেতে সরকারি ফি মাত্র ৭৬৮ টাকা স্বীকার করে বলেন, ‘একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

বিদ্যুৎ বিতরণ দক্ষিণ অঞ্চল প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘মিটার সংযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত