জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দুরমুঠ-নিলক্ষিয়া সড়কের ছয় কিলোমিটার নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তাও নিম্নমানের হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে অনেক স্থানে নির্মাণ করা সড়ক ধসে গেছে। প্রায় সাড়ে তিন বছরেও সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সড়কটি নির্মাণ করার জন্য ‘ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দুরমুঠ থেকে নিলক্ষিয়া পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৮ টাকা। কাজটি পায় চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স। তবে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি করছেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসেন। ২০২০ সালের ২৯ মার্চ সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। তিনবার মেয়াদ বাড়ানোর পর সর্বশেষ ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে।
জানা যায়, সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার আওতায় এনেছে। ফলে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গুনতে হবে জরিমানা। তারপরও কবে এই সড়কের কাজ শেষ হবে, জানে না কেউ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সংসদ সদস্যের হেঁয়ালিপনায় সড়কটি নির্মাণের কাজ খুবই ঢিমেতালে চলছিল। এখন তো পুরো কাজই বন্ধ রয়েছে। যেটুকু কাজ সম্পন্ন করেছে, সেটাও নিম্নমানের। কাজ শেষ না হতেই বিভিন্ন স্থান ধসে পড়ছে। এই সড়কে গাইবান্ধা ইউনিয়নের লোকজন ইসলামপুর উপজেলা শহর ও বকশীগঞ্জ উপজেলায় যাতায়াত করেন। সড়কটির কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মহিষকুঁড়া গ্রামের আসমত আলী বলেন, ‘চানগঞ্জ নৌকাঘাট থেকে মহিষকুঁড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে বালু ও খোয়ার কাজ শেষ হয়েছিল। পরে কার্পেটিং করার জন্য সড়কে রোলারও করা হয়েছিল। ওই অবস্থায় রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৯ মাস থেকে লাপাত্তা। এখানে আমি এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি ফেলেছিলাম। এমপির লোকজন আমাকে দিয়ে মাটি ফেলায়। কিন্তু ৯ মাসেও আমার পাওনা টাকা দেওয়া হয়নি। প্রায় ২০ বার এমপির বাড়িতে গিয়েছি টাকার জন্য।’
এ বিষয়ে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘কাজটি আমার নয়। এক ভদ্রলোক কাজটা চালাতে পারতেছে না। আমার নাম দেয়। তাও কাজ হইতেছে। সোয়া দুই কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। সরকার টাকা-পয়সা দেয় না। বাকি কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে টাকা দিতে বলেছি। দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ‘কোনো টাকা নেই, টাকা এলে পাবেন।’ তবে খুব দ্রুত সড়কের কাজটি শেষ হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক বলেন, ‘কাজটির দুই কিলোমিটার কার্পেটিং শেষ হয়েছে। বাকি চার কিলোমিটার ম্যাকাডাম পর্যন্ত করা হয়েছে। মালামালের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে কাজটি করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে সড়কের কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যা একটু ছিল তা সংশোধন করা হয়েছে’।
