প্রতি বছরই শীতকালে অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখর হয় আমাদের দেশ। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই শীতের অতিথি পাখিদের দেখা যায়। এর ব্যতিক্রম নয় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা। রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপ-শহরের গোয়ালপাড়া, বাঘবেড় এলাকার লেকে প্রতি বছরই দেখা মেলে অতিথি পাখির। এখানে আসা অতিথি পাখিদের যাতে কেউ কোনো ক্ষতি না করতে পারে সেটি খেয়াল রাখেন স্থানীয়রা।
এ কারণে অতিথি পাখিরাও নির্বিঘে্ন এখানে প্রতি বছর পাড়ি জমায়। গোয়ালপাড়া ও বাঘবেড় এলাকার এ দুটি লেক যেন অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। রূপগঞ্জসহ আশপাশের এলাকা থেকে অতিথি পাখি দেখতে বাঘবেড় ও গোয়ালপাড়া এলাকায় এসে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা।
জানা গেছে, শীতকাল এলে শীতপ্রধান দেশের পাখিরা দেশ ভ্রমণে বের হয় বেঁচে থাকার জন্য। মূলত আমাদের দেশে আসে সাইবেরিয়া এবং হিমালয় অঞ্চলের পাখিরা। শীতকাল এলে ওইসব দেশের ভূভাগ ও জলাশয়গুলো বরফে ঢেকে যাওয়ায় সেখানকার পাখিরা, বিশেষ করে সেসব দেশের হাঁস, বক ইত্যাদি জলচর পাখি প্রয়োজনীয় খাবার পায় না। তখন তারা দেশান্তরী হতে শুরু করে। পাড়ি জমায় এমন দেশে যেখানে হাওর-বাঁওড়, নদী-নালার অভাব নেই, খাবারের সমস্যা নেই। এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নামটি উল্লেখযোগ্য। শীতটা কাটিয়ে আবার ওরা পাড়ি জমায় নিজ দেশে। এরই ভেতর পাখি-প্রেমিকরা মন ভরে দেখে নেয় তাদের।
তবে এক শ্রেণির লোভী শিকারির নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য দুর্লভ প্রজাতির অতিথি পাখি। এসব কারণে এদেশে আগের চেয়ে তুলনামূলক অনেক কমে গেছে অতিথি পাখি আগমনের সংখ্যা। তবে অনেকটাই ব্যতিক্রম নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বাঘবেড় ও গোয়ালপাড়া এলাকা। বাঘবেড় ও গোয়ালপাড়া এলাকায় অতিথিদের নিরাপদ আবাস্থল গড়ে উঠেছে।
ঘুরতে এসে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ রায়হান বলেন, অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ ও উড়ে বেড়ানো দেখে মনটাই ভালো হয়ে গেল।
অতিথি পাখি দেখতে আসা আলামিন জানান, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য পাখিদের বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন আছে। যে দেশে পাখি বেশি, সে দেশে পর্যটকের সংখ্যাও বেশি।
স্থানীয় যুবক রিপন মিয়া বলেন, বাড়ি লেকের পাশের হওয়ার কারণে শীতকালে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। ব্যাপারটি আমার মনে অনেক প্রশান্তি জোগায়। আমরা এলাকাবাসী পাখিগুলোকে দেখে রাখি। যাতে করে কেউ পাখিগুলোর ক্ষতি করতে না পারে। এ কারণে পাখিরাও আসে প্রতি বছর।
