পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের রিয়্যাক্টর ভবনে মূল কুল্যান্ট পাইপলাইনের (এমসিপি) ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পটি আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
মূল কুল্যান্ট পাইপলাইন মূলত একাধিক পাইপের সমন্বয়ে গঠিত, যা প্রাইমারি সার্কিটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এতে চারটি লুপ রয়েছে এবং প্রতিটি রিয়্যাক্টর, রিয়্যাক্টর কুল্যান্ট পাম্প এবং বাষ্প জেনারেটরের সঙ্গে সংযুক্ত। মূল কুল্যান্ট পাইপলাইনটি ১৪০ মিটার দীর্ঘ এবং এর অভ্যন্তরীণ ব্যাস ৮৫০ মিমি এবং মোট ওজন ২৩৮ টন।
এএসই ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং রূপপুর এনপিপি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আলেক্সি ডেইরি জানান, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার সময় এই মূল কুল্যান্ট পাইপলাইনের মধ্য দিয়ে ৩২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় কুল্যান্ট (শীতলীকরণ পদার্থ) প্রবাহিত করা হবে। অতএব, এটি একটি দায়িত্বপূর্ণ কাজ যাতে শুধুমাত্র অত্যন্ত অভিজ্ঞ ওয়েল্ডারদেরই নির্বাচন করা হয়। উচ্চমান এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিটি ওয়েল্ডিং জয়েন্টের সাতটি ইন্সপেকশন করা হয়ে থাকে।’
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাইপলাইনটিতে ২৮টি জয়েন্টের সংযোগকরণ, ওয়েল্ডিং এবং হিট ট্রিটমেন্টে সময় লেগেছে ৬০ দিন। অতিরিক্ত ৬ দিন লেগেছে বিশেষ ধরনের স্টেইনলেস স্টিলের সাহায্যে প্রলেপ দেওয়ার কাজে। এই বিশেষ প্রলেপ পাইপলাইনকে ক্ষতিকারক বস্তুর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে। গুরুত্বপূর্ণ এই কাজের সঙ্গে রুশ প্রতিষ্ঠান এনার্গোস্পেতসমন্তাঝের শতাধিক কর্মী যুক্ত ছিলেন। অন্য রুশ প্রতিষ্ঠান নিকিমিত-এতমস্ত্রয় কারিগরি, বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শ সহায়তা প্রদান করেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরমাণু শক্তি কমিশন দেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর রাশিয়ার রসাটম করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা। প্রকল্পটিতে দুটি ইউনিটে থাকছে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর রিয়্যাক্টর, যেগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম। বাণিজ্যিকভাবে এই কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৪ সালে এবং এর পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে।
পাবনায় পদ্মা নদীর পাড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের নভেম্বরে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
