সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বসতবাড়ি ঘেঁষে রেললাইন আতঙ্কে বাসিন্দারা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:১৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বসতবাড়ি ঘেঁষে নতুন রেললাইন বসানো হয়েছে। বসতঘর থেকে মাত্র ৭-৮ ফুট দূরে রেললাইন বসানো হয়েছে। এসব বাড়িতে শতাধিক মানুষ বসবাস করে। বসতবাড়ি ঘেঁষে রেললাইন বসানোয় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। অন্যদিকে রেলওয়ের চলমান উন্নয়ন কর্মকা-ের ভারী যন্ত্রপাতির ভাইব্রেশনের ঝাঁকুনি লাগছে ব্যক্তিমালিকানা ভবনগুলোতে। কয়েকটি ভবনে ফাটলও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি লাকসাম-আখাউড়া ডবল রেললাইন প্রকল্প পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

লিখিত আবেদন ও সরেজমিনে দেখা গেছে, লাকসাম-আখাউড়া ডবল রেললাইন নির্মাণ এবং আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের উন্নয়নকাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এর অংশ হিসেবে স্টেশনের দক্ষিণে পৌর শহরের চন্দনসার ও দেবগ্রাম মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণ করে নতুন রেললাইন স্থাপনের কাজ চলছে। পশ্চিম সীমানায় বসতঘর ঘেঁষে রেললাইন বসানো হয়েছে। রেললাইনের পাশেই বেশ কিছু আধা পাকা বাড়িঘর ও একটি মসজিদ রয়েছে। এসব বাড়িঘরে নারী-শিশুসহ বহু মানুষ বসবাস করে। এ ছাড়া পূর্ব দিকেও রেললাইনের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি। ট্রেন চলাচলকালে শব্দদূষণের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নিরাপদ দূরত্বে রেললাইন বসানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ উজ্জ্বল বলেন, ‘রেল একবার আমাদের বাড়ি অধিগ্রহণ করেছে। আমরা সামান্য জায়গায় কোনো রকমে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছি। আমাদের ঘরের সঙ্গে রেললাইন স্থাপন করেছে। কোনো জায়গাই রাখেনি। ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের ঘরে এসে পড়বে। এ জন্য আমরা আতঙ্কে আছি।’

রেললাইনের পাশেই মোহাম্মদ আলীর বাসা। উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে তার পৈতৃক বাড়িটি অধিগ্রহণ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরে পাশেই জায়গা কিনে নতুন দোতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রেলের ভারী যন্ত্রপাতির ঝাঁকুতিতে আমার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শেখ বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘যেভাবে বাড়িঘর ঘেঁষে রেললাইন বসানো হয়েছে, কোনো কারণে যদি রেল দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে উদ্ধারকাজ করার মতো রেলের জায়গা নেই। জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রেললাইন স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। আমরা আগেও জায়গা দিয়েছি প্রয়োজনে আরও দেব।’

এ বিষয়ে আখাউড়া-লাকসাম ডবল রেললাইন প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) আবদুল্লাহ বলেন, ‘এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ওই লাইনটি দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে না। শুধু ট্রেন সানটিং করবে। তাই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নাই।’ রেলের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রজেক্টের খরচ লিমিটের মধ্যে রাখার জন্য কোনো কোনো জায়গায় সীমানায় কাজ করা হয়েছে। এটা ডিজাইন ফেজে যারা কাজ করেছে, তাদের বিষয়। হয়তো অধিগ্রহণ খরচ, সবকিছু মিলিয়ে এটা করা হয়েছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত