সেই রাতের রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিলেন চমেকের দুই শিক্ষার্থী

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৩৪ এএম

শিবির সন্দেহে মারধরের শিকার দুই ছাত্র অবশেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্র সাকিব হোসেন ও জাহিদ হোসেন ওয়াকিল সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) কলেজ অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এর আগে, ছাত্রাবাসে ডেকে নিয়ে গেল বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত তাদের কীভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তার বর্ণনা দেন। তবে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করেননি তারা। জড়িত শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ করে তাদের শাস্তি দাবির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাও চেয়েছেন।

গত রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সৌরভ, মাহিন নামে দুজন ছাত্র চমেক আইসিইউতে গিয়ে মারধরের সঙ্গে জড়িতদের নাম বললে দুজনকে (সাকিব ও জাহিদ) মর্গে পাঠানোর হুমকি দিয়ে গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তারা।

ভুক্তভোগী দুই ছাত্র বর্তমানে চমেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। লিখিত অভিযোগে দুজনের স্বাক্ষরের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক অধ্যাপক মো. হাফিজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মারধরের শিকার দুই ছাত্রের অভিভাবক সোমবার চমেক অধ্যক্ষ সাহেনা ম্যাডামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা ঘটনার বর্ণনা, কারণ, অভিযুক্তদের নামও উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দুই শিক্ষার্থী অভিযোগে জানান, ‘বড় ভাইয়া’ ডাকছে বলে তাদের চমেক ছাত্রাবাসের তিনতলার ১৭/সি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টার রেটিনা'য় ক্লাস নেন কিনা জানতে চেয়ে উত্তরে 'না' বলার পর তাদের ওপর শুরু হয় নির্যাতন। ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে তাদের রাতভর পেটানো হয়। মারধরে অংশ নেয় ২০/২২ জন ছাত্র। লিখিত অভিযোগে সাকিব হোসেন বলেন, ক্লাসে আমাকে মনিটর নির্বাচিত করায় ক্ষিপ্ত ছিল একই বর্ষের ছাত্র সাজু দাশ। ২০২১ সালে সৌরভ দেবনাথ নামে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠলে তখন সবার মতো আমি প্রতিবাদমুখর ছিলাম। এ কারণেও আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল সাজু দাশ।

অভিযোগে সাকিব হোসেন বলেন, ছাত্রাবাসের তিনতলার ১৭/সি কক্ষে নিয়ে যায়। টিউশনি থেকে আসছি বলার সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে আমাকে আঘাত করে ইমতিয়াজ আলম। তারপর হাত-পা বেঁধে ফেলে। এ অবস্থায় মুখে পানি ঢালতে থাকে। নিশ্বাস বন্ধের উপক্রম হলে পানি ঢালা বন্ধ করে। এরপর কয়েকজনের নাম বের করে বলে, আমরা কোথাও (রেটিনা কোচিং সেন্টার) ক্লাস নিই কি না? আমি আমারটার উত্তর দিলাম, অন্যদেরটা জানি না। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে স্টাম্প, প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে মাটিতে শুয়ে পড়লে দুই মিনিট চেয়ারে বসিয়ে আমাকে পানি খাওয়ানো হয়। এরপর আবার জয়েন্ট গুলোতে স্টাম্প দিয়ে আঘাত করতে থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত