ফুটবলের জন্য বাড়িও ছাড়তে হয়েছিল রজনীকে

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:১৬ পিএম

পড়াশোনার পাশাপাশি শখের বসে ফুটবল খেলতেন রজনীকান্ত বর্মণ। সেই শখ এক পর্যায়ে তার নেশায় পরিণত হয়। সেখান থেকে পেশা। পরে তো রজনী হয়ে ওঠেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের অংশ।

রজনীর অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল পায় নিজেদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য। ২০০৩ সালে দেশকে সাফ শিরোপা উপহার দেন তিনি। অথচ ফুটবলের জন্য এক সময় যাকে বাড়িও ছাড়তে হয়েছিল।

বছর কয়েক আগে এই প্রতিবেদককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রজনী তার বেড়ে ওঠার দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করেছিলেন। সেখানে দেশের ইতিহাসের সেরা এই ডিফেন্ডার বলেছিলেন, ‘আসলে আমি ছোট বেলা থেকেই মা-বাবার থেকে দূরে থেকে বেড়ে উঠেছি। ছোট বেলায় আমি আমার খালার বাড়িতে থেকেছি। ক্লাস ওয়ানে পড়া সময় থেকেই আমি বাইরে।’

রজনী বলে যান, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবলটা শখে খেলতাম। এক পর্যায় তা নেশায় হয়ে দাঁড়ায়। এমন কি এই ফুটবলের কারণে আমাকে বাড়িও ছাড়তে হলো। সারাক্ষণ শুধু খেলাধুলাই করতাম। দিন শেষে বাড়ি ফিরে ঘুম। পড়ালেখা করতাম না। বাবা-মা তাই বললেন, পড়ালেখা যখন করবি না, বাড়ি থেকে বেরই হয়ে যা।’

রজনী তাই একদিন পোটলা-পাটলি বেধে বেরিয়ে পড়েন বাড়ি থেকে। কিন্তু এরপর কী হলো? রজনী বলেন, ‘খালার বাড়িতে গিয়ে উঠলাম আমি। ক্লাস ফোরে ওঠার পর আমি আরেক খালার বাড়ি চলে আসি। ক্লাস ফাইভে যখন পড়ি তখন থেকে আমাকে বাড়ি থেকে কোনো টাকা পয়সা নিতে হয়নি। ভালো খেলতাম বলে সবার অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। হাত খরচের টাকা ফুটবল খেলেই পেতাম। হাই-স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত আমাকে কোন ফিসও দিতে হয়নি ভালো খেলতাম বলে।’

সেই রজনীই এখন সব খুইয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। দেশকে সাফ শিরোপা উপহার দিয়েছেন। ছিলেন ১৯৯৯ সালে সাফ (বর্তমানে এসএ গেমস) জয়ী দলেও। কিন্তু তার খোঁজ কেউ রাখেনি!

রজনীর মানবেতর জীবনের গল্প পড়ুন-

রজনীর জীবনে অমানিশার আঁধার

বেঁচে আছি নাকি মরে গেছি সেই খবরও নেয়নি বাফুফে: রজনী

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত