মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক

বিপুল অবৈধ অস্ত্র আসছে দেশে অভিযানের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫১ এএম

অবৈধ পথে বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র আসছে দেশে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে সরকারকে এমন তথ্য দিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি।

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সভার সিদ্ধান্ত জানান কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী মাদক ক্রেতা, বিক্রেতা ও সেবীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করতে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। 

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিপুল পরিমাণে অবৈধ অস্ত্র আসছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সরকারের কাছে প্রতিবেদন এসেছে। এসব অস্ত্র ব্যবহারের জন্য অনেকেই জাল অস্ত্র লাইসেন্স তৈরি করেছে। সে কারণে স্থানীয় প্রশাসন থেকে অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করা হবে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যাতে ভীতসন্ত্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে নিজেদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, এমন কাজ যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না করে সেজন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও পণ্যে ভেজালরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হবে। বাজারে নিত্যপণ্য জোগান ও সরবরাহ যেন পর্যাপ্ত থাকে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈঠকে মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে কলাকৌশল বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও সংস্থাগুলো কত টাকার কার্যক্রম চালাচ্ছে, কত ব্যয় করছে, তাদের সব আর্থিক কার্যক্রমের স্টেটমেন্ট চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একুশে ফেব্রুয়ারি যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় সে জন্য কমিশনারকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সাইবার অপরাধ নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। দেশে সাইবার অফিস না থাকায় সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। যে কারণে অনেকেই বিদেশে বসে উদ্দেশ্যমূলক রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা বিদেশে বসে ইউটিউব, ফেইসবুকে অপপ্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ভারতের মতো বাংলাদেশে অফিস থাকলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এজন্য দেশে দ্রুত অফিস স্থাপনে কূটনৈতিক তৎপরতার জোর চেষ্টা চালানো হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত