নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার আল ফিন্দাল শারক্বীয়ায় তরুণদের সদস্য করতে এবং প্রশিক্ষণের মূল দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনটির নায়েবে আমির মো. মহিবুল্লাহ। তিনি ভোলার শায়েখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সংগঠনের সদস্যদের কাছে। নায়েবে আমির মহিবুল্লাহ নিজেই ৫০-৬০ জন তরুণকে উগ্রবাদে জড়িয়ে কথিত জিহাদে সম্পৃক্ত হতে (বিভিন্ন হামলায় অংশ নেওয়া) উদ্বুদ্ধ করেছেন ধর্মীয় বয়ানের মাধ্যমে। আর এসব তরুণকে তিনি নিজেই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
এর আগে গত মঙ্গলবার জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার নায়েবে আমির মো. মহিবুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসির সিটি ইনভেস্টিগেশন টিম। রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় চালানো ওই অভিযানের সময় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে সিটিটিসি। গতকাল দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার আল হিন্দালের নায়েবে আমির মহিবুল্লাহ পুরাতন জঙ্গি সদস্য। ১৯৯২ থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরজাতুল জিহাদের সঙ্গে জড়িত। তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জামেয়াতুল আহেলিয়া দারুল উলুম মইনূল ইসলাম মাদ্রাসার ছাত্র থাকাকালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদে জড়িয়ে পড়েন। গত বছর জানুয়ারিতে সিটিটিসির হাতে গ্রেপ্তার শূরা সদস্য ডা. শাকের ওরফে শিশির, পলাতক জঙ্গি নেতা শামিন মাহফুজসহ গ্রেপ্তার শায়েখ মহিবুল্লাহ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দিস শারক্বীয়ার প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যায়। সেখানে কুকি-চিনদের বিদ্রোহী সংগঠন কেএনএফ (কুকি-চিন ন্যশানাল ফ্রন্ট) এর তত্ত্বাবধানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ চলত। তাদের সঙ্গে কেএনএফের প্রধান নাথান বম ও অন্য কুকি-চিন নেতাদের সাক্ষাৎ হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে সংগঠনটির নামকরণ করা হয়। গঠন করা হয় শূরা কমিটি। গ্রেপ্তার মহিবুল্লাহকে সংগঠনটির নায়েবে আমির নির্বাচিত করা হয়।
সিটিটিসি প্রধানের দাবি, গ্রেপ্তার মহিবুল্লাহ ক্যাম্পে অবস্থানকালে সন্ধ্যার পর প্রশিক্ষণরত সদস্যদের বয়ান দিতেন। তার বয়ানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে জঙ্গি সদস্যদের জিহাদের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। তিনি বলেন, শায়েখ মহিবুল্লাহ পাহাড়ে কিছুদিন অবস্থান করার পর ঢাকায় চলে আসেন এবং শূরা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড চ্যাটের মাধ্যমে সমন্বয় করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দাওয়াতের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। শূরা সদস্য ডা. শাকেরকে দাওয়াতি কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য শায়েখ মহিবুল্লাহকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংগঠনের শূরা পর্যায়ের একাধিক সদস্যের সঙ্গে ঢাকা, সিলেট ও কিশোরগঞ্জে সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি একাধিক বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি হাটহাজারীসহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় বিভিন্ন সময়ে আসা-যাওয়া করতেন এবং সেখান থেকে পেনড্রাইভের মাধ্যমে বিভিন্ন জিহাদি ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে তার ল্যাপটপে সংরক্ষণ করতেন। জিহাদসংক্রান্ত বিষয়ে তার নিজস্ব লেখার খসড়া কপিও তার কাছে পাওয়া গেছে। ডা. শাকের সিটিটিসির হাতে গ্রেপ্তারের পরে শায়েখ মহিবুল্লাহ নিজেকে আড়াল করতে তার ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার শায়েখ মহিবুল্লাহ চট্টগ্রামের হাটহাজারীর আল জামেয়াতুল আহেলিয়া দারুল উলুম মইনূল ইসলাম মাদ্রাসার ছাত্র থাকাকালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি-বি) এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তৎকালীন হুজির অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসায় কথিত জিহাদি ট্রেনিং গ্রহণ করেন।
