আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের দিয়ে ঘরের মেঝে ভরাট!

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:০২ পিএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে সুবিধাভোগীদের দিয়ে ঘরের মেঝে বালু ভরাটের কাজ করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও এ কাজ করার কথা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের। অন্যদিকে ঘর ভরাটের জন্য ভিটি বালু বন্দোবস্ত করতে আইন অমান্য করে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে। উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া (জালিয়াপাড়া) গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে এসব অনিয়ম করা হচ্ছে।

পার্বতীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১৯১ ঘরের মধ্যে উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া (জালিয়াপাড়া) গ্রামে ২৫টি পরিবারের জন্য ২৫টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিটি ঘরের জন্য জন্য ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরের ইটের দেয়াল হয়ে গেছে। পলেস্তারার কাজ বাকি। ঘরের ভেতরে মেঝে এখনো হয়নি। মেঝেতে ভিটি বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। বালু ফেলার কাজটি করানো হচ্ছে আশ্রয়ণের ঘর পাওয়া সুবিধাভোগী ভূমিহীনদের দিয়ে। এ সময় কথা হয় সুবিধাভোগী টুলটুলী বালা, কার্ত্তিক রায়, জগদীশ রায়, ও সুভাষের সঙ্গে। তারা জানান, তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন। গত চারদিন ধরে ঘরের মেঝে ভিটি বালু দিয়ে ভরাটের কাজ করছেন।

ঘরের মেঝে ভরাটের বালু কোথা থেকে আসছে জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, যে জমি থেকে বালু কাটা হয়েছে, সেটি তিন ফসলি জমি। প্রকল্পের ভিটি বালুর জন্য সেই জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে আশপাশের জমির মালিকরা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছেন। যে কোনো জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে অনুমতি নিতে হয়। কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইনের খসড়াতেও বিষয়টি উল্লেখ করা আছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের কাজে সংশ্লিষ্ট চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদার নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বসিবানিয়া এলাকার ফজলুর হকের কাছ থেকে ভিটি বালু কিনে আশ্রয়ণ প্রকল্পে দিচ্ছি।’ সুবিধাভোগীদের দিয়ে বালু ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কি ঘর ভরাট করা সম্ভব।’

এ বিষয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সফিউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টা আমি জানি না। সুবিধাভোগীদের দিয়ে প্রকল্পের কাজ করার কোনো নিয়ম নাই। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে শ্রমিকদের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকে। বিষয়টি আমি দেখছি।’

এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়টি আমি জানিনা। এটা অবশ্যই খারাপ কাজ। আমি যোগাযোগ করে দেখছি বিষয়টা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত