শ্রীপুরে সড়ক আটকে দোকান ২০ পরিবারের চলাচল বন্ধ

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:০৩ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে ৪০ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি কাঁচা রাস্তার মাঝে টং দোকান স্থাপন করে মানুষজনের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে একটি পরিবার। এতে অন্তত ২০ পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে আছে দুদিন ধরে। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় এতে প্রায় দেড়শ মানুষ চলাচল করতে পারছে না।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার বিকেলে কোনো কিছু না বলেই রাস্তার মাঝ বরাবর টং দোকান তুলে সড়কটি বন্ধ করে দেন আবদুল কাদিরের ছেলে ওমর আলী। এ সময় পাশের অংশে বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়া হয় চলাচলের শেষ জায়গাটুকুও। উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের গোদারচালা গ্রামের কইতরীরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা বলেন, সাইটেলিয়া-গোদারচালা সংযোগ সড়ক এটি। মাটির এই কাঁচা সড়ক অন্তত ৪০ বছর ধরে ওই টেকের মানুষ ব্যবহার করছে। বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে রাস্তাটিতে মাটি কাটাসহ মেরামতও করা হয়েছে। এখন সেই গ্রামের মানুষগুলো অবরুদ্ধ হয়ে আছে। হাটবাজার বা হাসপাতালেও যেতে পারছেন না বাসিন্দারা। দ্রুত রাস্তাটি উন্মুক্ত করা না হলে শিশুরা স্কুলে যেতে পারবে না। সবার জীবিকা বন্ধ হয়ে যাবে। 

গোদারচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তার জানায়, সকালে প্রাইভেট পড়তে যেতে হয়েছে ধানখেতের আইল দিয়ে। সরু আইল বেয়ে চলাচল করা খুবই কঠিন।

পোশাক কারখানার শ্রমিক দোলেনা বলেন, ‘গত শুক্রবার রাত ৯টায় বাড়ির পাশে এসে দেখি রাস্তার মাঝখানে টং দোকান ফেলা। এরপর রাস্তার পাশের ধানখেতের আইল দিয়ে বাড়িতে ফিরতে হয়েছে।’

অবরুদ্ধ কইতরীরটেকের বাসিন্দা অটোচালক বোরহান উদ্দীন বিপুল বলেন, দুদিন ধরে আমরা অবরুদ্ধ হয়ে আছি। আমি জীবিকা নির্বাহ করি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে। দুদিন ধরে রাস্তা বন্ধ থাকায় অটোরিকশা নিয়ে বের হতে পারছি না।’

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিজ উদ্দিন বলেন, ‘ওমর আলী সরকারি জমির ওপর রাস্তার জন্য আমাদের কাছে দুই লাখ টাকা চায়। চেয়ারম্যান-মেম্বারকে জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।’

অভিযুক্ত ওমর আলী বলেন, ‘রাস্তার জন্য টাকা চেয়েছি, টাকা না দিলে রাস্তা দিব না। এটা সরকারি জমি ঠিক, সরকার চাইলে নিয়ে নেবে। কিন্তু টাকা ছাড়া আমি রাস্তা দিব না। আমাকে স্থানীয় মেম্বার বলছে, এখানে টং দোকান বসাতে। টাকা পাব টং সরবে।’

তবে তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ইকবাল সরকার মুঠোফোনে বলেন, ‘ওমর আলীকে রাস্তার মধ্যে টং দোকান ফেলার অনুমতি আমি দিইনি।’

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন খবর শুনিনি। রাস্তা বন্ধ করে মানুষের চলাচলে বাধা দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি অপরাধ। যাচাই করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত