চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক শিক্ষকের মরদেহ আটকে রেখে ছেলের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকের নামীয় সম্পত্তি ছেলের নামে লিখে দেওয়ায় ভাইদের নামে ফেরত দিতে জোর করে স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়। এমনকি সই দিতে অনীহা জানালে তাদের গালমন্দ ও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলা সদরের একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন শিক্ষক দুলাল চন্দ্র দত্তের পরিবারের সদস্যরা। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই শিক্ষকের ছেলে লায়ন রঞ্জন কান্তি দত্ত। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাই রাজেন কান্তি দত্ত, বোন অনুরূপা দত্ত ও ভগ্নিপতি বিপ্লব রক্ষিত।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার কৈনপুরা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র দত্ত স্থানীয় কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকে তার পরিবার। গত ১৮ জানুয়ারি ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে ওই শিক্ষক পরলোক গমন করেন। পরদিন ১৯ জানুয়ারি গ্রামের বাড়িতে শবদাহের জন্য মরদেহ শ্মশানে নেওয়ার পথে খাটিয়া আটকে রাখে ভাই অশোক দত্ত ও তার ছেলেরা। এ সময় ওই শিক্ষকের ছেলের নামীয় সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দেওয়ার অঙ্গীকারনামায় জোর করে সই নেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি সই করা স্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য নিতাই চন্দ্র দে বলেন, ওই শিক্ষকের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। শবদাহের আগে জমির বিরোধ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছিল। তবে কেউ স্ট্যাম্পে সই নিয়েছে কি না বা পরে কী হয়েছে তা আমি জানি না।
জানতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন অশোক দত্ত স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, রঞ্জনদের সঙ্গে আমাদের জমির বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তবে কোনো ধরনের স্ট্যাম্প বা সই নেওয়া হয়নি।
