স্কুল শিক্ষিকা মমতাজ বেগম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই গাজীপুর জেলা। এ ঘটনায় নিহত স্কুল শিক্ষিকার অভিযুক্ত ভাতিজা উচ্ছাস সরকারকে (৩০) গাজীপুর নগরের কোনাবাড়ীর বাঘিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই গাজীপুরের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, নিহত মমতাজ বেগম (৫৫) ঢাকার নাখালপাড়ার হলি মডেল কিন্ডার গার্ডেন ইংলিশ বেইজড বাংলা মিডিয়াম স্কুলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা ছিলেন। ২০১৯ সালের ১ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি ঢাকার বাসা থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ির বাঘিয়ায় তার বাবার বাড়ি আসেন। পরদিন ২ মার্চ সকালে থানা-পুলিশ বাঘিয়ার ডিসপুকুর পাড়ে একটি পরিত্যাক্ত বাড়ির ফাঁকা জায়গা থেকে মমতাজের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মৌ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
হাফিজুর রহমান আরও জানান, ঘটনার দিন মমতাজ বেগম সন্ধ্যার পর কোনাবাড়ীতে তার ভাই আব্দুর রশিদ সরকারের বাড়িতে আসেন। এরপর মমতাজ, তার ভাই আব্দুর রশিদ ও পরিবারের সদস্যরা জমিজমা ও টাকা নিয়ে আলোচনায় বসেন। আলোচনার একপর্যায়ে আব্দুর রশিদ মমতাজকে টাকা না দিয়ে স্ট্যাম্পে সই করার জন্য শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এরপর আব্দুর রশিদ সরকারের ছেলে নিলয় সরকার মমতাজ বেগমকে শ্বাসরোধে করে হত্যা করে। পরে আসামি উচ্ছাস সরকার, আব্দুর রশিদ ও আব্দুর রশিদের ছেলে নিলয় সরকারসহ অন্য আসামিরা মরদেহ মন্ডল বাড়ির পাশে ফেলে রাখে। হাফিজুর রহমান জানান, উচ্ছাস সরকার গত সোমবার গাজীপুর আদালতে এ হত্যার ঘটনায় নিজের এবং জড়িত অন্যদের ভূমিকার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
