সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনী ব্যবস্থাও শেষ : ফখরুল

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৩, ০২:২৬ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা কলঙ্কজনক। সরকার সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ব্যবস্থাও ধ্বংস করে দিয়েছে। সর্বশেষ তারা সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিল।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীরসেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ১২-দলীয় জোটের উদ্যোগে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২৭ দফা রূপরেখার গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে যে নির্বাচন হয় তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সে নির্বাচন সবাই গুরুত্ব দেয়। কিন্তু এ নির্বাচন ঘিরে যা ঘটেছে তা কলঙ্কজনক। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। এটা প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই। মনে হয়, সরকারও নেই।’

তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনী ব্যবস্থা সরকার ভেঙে দিয়েছে। এর আগে তারা প্রেস ক্লাবের নির্বাচনী ব্যবস্থা নষ্ট করেছে। তারা সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। কারণ আওয়ামী লীগ হলো চোর। সব ক্ষেত্রে তারা চুরি করে। এত বড় চোর বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন তারা যমুনা নদীকে সংকুচিত করতে প্রকল্প হাতে নিয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের ‘সংবিধান বিতর্ক’ বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাহাত্তর সালের সংবিধান প্রণয়নের আগে দুটো নির্বাচন হয়েছিল। একটি পাকিস্তান জাতীয় সংসদের, আরেকটি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্যদের নিয়ে আওয়ামী লীগ সংবিধান রচনার জন্য গণপরিষদ গঠন করেছিল। এরাই সংবিধান রচনা করেছিল। তাতে গণতন্ত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সুরক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কিন্তু তার কোনোটা কি আজ আছে?’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কষ্ট হয়, যখন দেখি কিছু বুদ্ধিজীবী এই নেত্রীকে (শেখ হাসিনাকে) সাপোর্ট করেন। তার অন্যায়কে সমর্থন করেন। এই বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? আমরা এই বাংলাদেশ চাইনি। আজ দেশের মানুষ ভাত পায় না, চাল পায় না। একজন শ্রমিক তার ছেলেকে ডিম খাওয়াতে পারে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী জোর করে ক্ষমতায় আছেন। কোন রাষ্ট্রে বাস করছি আমরা? সত্য কথা বললে বলা হয় আমরা নাকি সমস্যা তৈরি করছি। তারা ভোট ও নির্বাচন নষ্ট করে দিয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়টি তারা ধ্বংস করে ফেলেছে। আমরা এই বাংলাদেশ চাইনি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবিতে ৭৩ দিন হরতাল করেছিল। আজ তারা সেটা বাতিল করে দিয়েছে। এখন দেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। আমাদের আন্দোলন চলছে। আমাদের আন্দোলনে ১৭ জন প্রাণ দিয়েছে। আসুন আমরা সবাই কঠোর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে জনগণের সরকার কায়েম করি।’

জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ এলডিপির অতিরিক্ত মহাসচিব তমিজউদ্দিন টিটুর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান আবদুল করিম আব্বাসী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত