শেরপুরের নকলায় কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। এতে অগ্নিকা- কিংবা যেকোনো দুর্ঘটনা নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকেন এলাকাবাসী। উপজেলার কোথাও আগুন লাগলে শেরপুর, জামালপুর বা ফুলপুরসহ অন্য উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে সর্বস্ব হারাতে হয় ভুক্তভোগীদের। অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর প্রায় সময় এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দাবিতে রাস্তাঘাট অবরোধ করে আন্দোলন করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ শুরু হয়। কিন্তু অধিগ্রহণ না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করায় আদালতে মামলা করেন জমির মালিক দুই ভাই কেশবনাথ ও দুধনাথ। নানা জটিলতায় ফায়ার সার্ভিসের ভবন নির্মাণ আর সম্পন্ন করা যায়নি। এরপর প্রায় ২০ বছর চলে গেলেও জমির সমস্যাও কাটেনি, ফায়ার সার্ভিসও আর চালু হয়নি।
নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মেদ জানান, যেখানে ফায়ার সার্ভিস ভবনটি রয়েছে সেখানে ৩৩ শতাংশ জমি রয়েছে এবং সবটুকু জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন। তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরী কেশবনাথ ও দুধনাথের জমি জোরপূর্বক নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ভবন তৈরি করলে তারা মামলা করেন আদালতে। ২০১২ সালে আদালত থেকে একটি স্টে অর্ডার পায় ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে ভবন আছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে কেশবনাথ ও দুধনাধ পুনরায় রিট করেন হাইকোর্টে। এসব নানা জটিলতায় ফায়ার সার্ভিস কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। জমির মালিক কেশবনাথ বলেন, ‘আমাদের জমি, আমরা খাজনা দিই সরকারকে। কেন তারা জোর করে নিয়ে তাদের পছন্দমতো কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কাজ করার সময় আমাদের জিজ্ঞাসাও করেনি তারা। ২০০৪ সালের দিকে কিছু ষন্ডাপান্ডা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের জমি দখল করে নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর উপ-সহকারী পরিচালক (পিডি) জাবেদ হোসেন মো. তারেক বলেন, ‘কেশবনাথ ও দুধনাথকে শেরপুরের পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসকসহ আমরা অনেকবার বুঝিয়েছি, বর্তমান বাজার মূল্যে দামও পরিশোধ করতে চেয়েছি। তবুও তারা যেখানে ফায়ার সার্ভিস ভবনটি হয়েছে সেই জমিটি দিতে রাজি নন। আমরা পুনরায় ২০২০ সালে উক্ত ভবনটিতে কাজ শুরু করেছিলাম, হাইকোর্টে তাদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে অধিগ্রহণে আমাদের সমস্যা নেই। আমরা ১০০ শতাংশ জমি অন্যত্র কিনে নকলা উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ভবনের কাজ খুব শিগগিরই শুরু করব ইনশাআল্লাহ।’
