‘হজের যে বিমান ভাড়া ধরা হয়েছে এটা একদম সর্বনিম্ন ও সর্বশেষ। আমরা যতটুকু সম্ভব তত কমিয়েছি। এর চেয়ে কম আর করা যায় না।’ আগামী ২১ মে থেকে হজের ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মূল কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শফিউল আজিম। এই সময় বিমানের ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।
শফিউল আজিম বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। তারমধ্যে বিমান ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন পরিবহন করবে। হজযাত্রী পরিবহনে বিমানের নিজস্ব ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ এবং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ব্যবহৃত হবে। চলতি হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের প্রথম ফ্লাইট শুরু হবে ২১ মে। ওইদিন রাত পৌনে ৪টায় হজযাত্রীদের নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় ২২ মে সকাল সাড়ে ৭টায় অবতরণ করবে। ২২ জুন বিমানের প্রি-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। এবারের প্রি-হজ ফ্লাইটে মোট ১৬০টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তারমধ্যে ঢাকা- জেদ্দা রুটে ১১৬টি, ঢাকা-মদিনা রুটে ২০টি, চট্টগ্রাম-জেদ্দা রুটে ১৪টি, চট্টগ্রাম-মদিনা রুটে ৬টি, সিলেট-জেদ্দা ও সিলেট-মদিনা রুটে ২টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
বিমানের এমডি আরও বলেন, আমরা ৩ মাস ধরে হজের বিমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের প্রথম প্রস্তাব ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৩৩৮ টাকা। পরে এটিকে কমিয়ে ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাহী কমিটি এই ভাড়া নির্ধারণ করেছে। এবার ভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ট্যাক্স, ডলারের রেট ও ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি। ভাড়া বৃদ্ধিতে আমাদের কোনো হাত নেই। হজের বিমান ভাড়া কমছে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘হজের যে ভাড়া ধরা হয়েছে এটা একদম সর্বনিম্ন ও সর্বশেষ। আমরা যতটুকু সম্ভব ততটুকু কমিয়েছি। এর চেয়ে কম আর করা যায় না। বিমান ভাড়া ধরা হয়েছে সেটি একটি আদর্শ বিমান ভাড়া। হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। সেখানে বিমান একটি মাত্র খাত। আমরা সর্বনিম্ন দিয়েছি। এরপরে আমাদের আর কিছু করার নেই। বিমান ভাড়া নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হজের বিমান ভাড়া সায়েন্টেফিক উপায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা নিয়ে অযৌক্তিক, অনুমান নির্ভর, অর্ধসত্য বলার সুযোগ নেই।
সম্প্রতি মানবিক বিভাগ থেকে পাস করে বিমানে পাইলট হওয়া ও বিমানে পাইলট নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যার বিষয়ে কথা বলা হয়েছে (পাইলট সাদিয়া) তিনি বিমানে পাইলট হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাননি। একজন পাইলট নিয়োগের আগে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়। তার (সাদিয়া) কাছে পাইলটের লাইসেন্স ছিল। বিমানে তাকে পাইলট হিসেবে বাছাইয়ের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল। তার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
