খেলোয়াড়ি জীবনে অ্যালান ডোনাল্ডকে নিয়ে নিশ্চয়ই দুঃস্বপ্ন দেখতেন চন্দিকা হাথুরুসিংহে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট এবং ওয়ানডে মিলিয়ে ১০টি ইনিংস খেলেছেন হাথুরু, এর ভেতর ৮ বারই সাবেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার আউট হয়েছিলেন সাদা বিদ্যুতের চমকে। তবে বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমে দুজনের রসায়নটা দারুণ জমে গেছে। স্বদেশি রাসেল ডমিঙ্গোর বদলে হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ দলের কোচের চেয়ারে বসার পর পেসারদের মনোজগতে দারুণ পরিবর্তন দেখছেন পেস বোলিং কোচ ডোনাল্ড। কৃতিত্বটা দিলেন এক সময়ের সহজ শিকার হাথুরুসিংহেকেই।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটের ব্যাটিং স্বর্গেও ৪ উইকেট নিয়েছেন এবাদত হোসেন, জোড়া শিকার তাসকিন আহমেদেরও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করেছেন হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমানও ভালো বোলিং করছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটটাকে দেখাচ্ছে বেশ ধারালো। ডোনাল্ড মনে করেন, হাথুরুসিংহের কোচিং দর্শনের সঙ্গেই তার ধ্যান-ধারণার বেশি মিল। ‘আমি এখানে ১২ মাসের মতো আছি, সবাইকে নিয়ে আমি যে কাজ করি সেটা ১২ মাস ধরে একই আছে। হাথুরুসিংহে একজন আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী মানসিকতার কোচ, আমিও তাই। সে আবারও বাংলাদেশে কাজ করতে এসেছে এবং নতুন করে গোটা দলের সবাইকে বুঝিয়েছে সে কীভাবে কাজ করতে চায়। সে সবাইকে বুঝিয়েছে, চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে হবে। জিততে হলে ভয় পেলে চলবে না। হাথুরুসিংহে নিজের ধারণাটা সবার ভেতর ছড়িয়ে দিতে পেরেছে। আমার মনে হয় পেসাররা নিজেদের শৃঙ্খলমুক্ত করেছে এবং আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছে’, বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন ডোনাল্ড।
দেশে আইরিশদের সঙ্গে সিলেটে খেলে আইরিশদের বিপক্ষে ফিরতি সিরিজের প্রস্তুতিও সেরে নিতে চান ডোনাল্ড, ‘এখানে পিচের অবস্থা যা দেখছি, মে মাসে চেমসফোর্ডে উইকেটের অবস্থা একদমই একই রকম থাকবে। বল সুন্দর ব্যাটে আসবে, খুব বেশি বাঁক খাবে না। পরের সিরিজে পয়েন্টের ব্যাপার স্যাপার আছে আর সে জন্য দারুণ প্রস্তুতি হচ্ছে।’
বোলারদের কাছ থেকে আরও বেশি পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা চান ডোনাল্ড, ‘ওদের কাছ থেকে আমার একটাই চাওয়া, ধারাবাহিকতা। বড় দলগুলোকে মূল্যায়ন করা হয় তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিচারেই। আমাদের এখন বেশ একটা ভালো সময় যাচ্ছে। টেকনিক্যাল-ট্যাকটিক্যাল জায়গা থেকে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। ৭০-৮০ রানের ইনিংসগুলোকে ১০০-১২০ রানে নিতে হবে। এতে করে আমাদের দলীয় সংগ্রহটা ৩৮০-৪০০ এরকম জায়গায় যাবে।’
শুরু থেকেই এবাদতকে নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন ডোনাল্ড। এক সময়ে শুধুই টেস্ট বোলার হিসেবে তকমা লেগে যাওয়া এবাদতকে এখন তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত সফল হতে দেখতে চান তিনি, ‘এবাদত নিজের সামর্থ্যরে ছাপ রেখেছে। ১২ মাস আগে তার সঙ্গে জোহানেসবার্গে আমার প্রথম দেখা হয়, তখন থেকেই সে খুবই ভালো করছে। সে দারুণ একজন অ্যাথলেট, অফুরন্ত দম। ওকে বলা যায় সিলেট রকেট। আমরা ছোট ছোট সব ব্যাপার নিয়ে কাজ করছি, গেইম ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করছি প্রতি ম্যাচেই।’
সিলেটের ব্যাটিং স্বর্গে বোলিং করার কৌশল নিয়ে ডোনাল্ড বলেছেন, ‘আমরা এখন উন্নতিটা দেখতে পাচ্ছি। আমরা এখন আক্রমণাত্মক, প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করছি। সঠিক জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। সবচেয়ে ভালো যে দিকটা দেখছি- দলের সবার মধ্যে নিজেদের ওপর বিশ্বাসটা বাড়ছে। তারা একে অন্যের জন্য অনুভব করছে, ওদের মধ্যে একটা দলগত মানসিকতা তৈরি হয়েছে।’
ডোনাল্ড বেশ কিছুটা দিন কাজ করেছেন স্বদেশি ডমিঙ্গোর সঙ্গে। তার সময়ে পেসারদের এমন আগ্রাসী মানসিকতা দেখা গেছে কমই। তখন ডোনাল্ডও বোলারদের বুঝতে সময় নিচ্ছিলেন, ক্রিকেটারদেরও ডোনাল্ডকে আস্থায় নিতে কিছুটা সময় লাগছিল। হাথুরুসিংহে এসে পড়ার পর দুজনের মানসিকতা মিলে যাওয়ায় কাজটা সহজ হয়ে গেছে দুজনেরই। খেলোয়াড়ি জীবনে দুঃস্বপ্ন উপহার দেওয়া ডোনাল্ডই এখন হাথুরুসিংহেকে দেখাচ্ছেন শক্তিশালী পেস বোলিং আক্রমণের স্বপ্ন। যেমনটা তিনি ২০১৫ সালে গড়েছিলেন মাশরাফী, তাসকিন, রুবেলদের নিয়ে। এবারে তাসকিনের সঙ্গে এবাদত, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজ, শরীফুলসহ আছেন আরও অনেকেই। হিথ স্ট্রিকের বদলে অ্যালান ডোনাল্ড, তাই স্বপ্নের পরিধিটাও নিঃসন্দেহে বড়।
