মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের পায়ের আঙুল পুড়ে পঙ্গুত্বের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সিংগাইর পৌর সদরের আঙ্গারিয়া এলাকার ডা. কেরামত আলী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নার্স-আয়াসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে মঙ্গলবার দুপুরে জানিয়েছেন সিংগাইর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম। গ্রেপ্তাররা হলো, হাসপাতালের নার্স শিরিনা আক্তার, আয়া দিপালী রানী দাস ও ক্যাশিয়ার মো. জাহিদ খান। এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে গতকাল বুধবার উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ রাতে ডা. কেরামত আলী হাসপাতালে প্রসববেদনা নিয়ে ভর্তি হন উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ঢোনখালপাড় এলাকার শুকুর আলীর স্ত্রী তাজ নাহার (২৫)। রাতেই ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন ডা. মাহমুদা সুলতানা সাকি। অস্ত্রোপচারের পর নবজাতকটি কান্না না করায় তাকে অ্যানালগ পদ্ধতিতে হিট দেয় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। এ সময় অতিরিক্ত হিট দেওয়ায় নবজাতকের দুই পায়ের আঙুলগুলো পুড়ে যায়। পরে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই নবজাতককে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়। ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে প্রায় ১৬ দিন চিকিৎসা শেষেও নবজাতকের পায়ের আঙুলের কোনো উন্নতি হয়নি। নবজাতকের বাবা শুকুর আলী গত সোমবার চারজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে ওই দিন রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সিংগাইর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পলাতক ডা. মাহমুদা সুলতানা সাকিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
