বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অবশেষে নিভল বঙ্গবাজারের আগুন

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৩, ১০:২৬ এএম

দেশের অন্যতম বৃহৎ কাপড়ের মার্কেট গুলিস্তানের বঙ্গবাজারে আগুন অবশেষে নিভেছে। আগুন ধরার প্রায় চার দিন পর শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিভেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার। তবে এখনও আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।

গত মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর গুলিস্তানের বঙ্গবাজারে আগুন লাগে। ওই দিন প্রায় ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৫০টি ইউনিট সেনা ও বিমানবাহিনীর সহযোগিতায় প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বঙ্গবাজারের বড় অংশ ছিল কাঠের ফ্রেমের ওপর। আগুনে কাঠের ফ্রেম পুড়ে তিন তলার কাঠামো জমি বরাবর মিশে যায়। মার্কেটের দোকানগুলোর শাটার, চালাসহ বেশ কিছু কাঠামো লোহার ছিল। তার নিচে ছিল কাপড়ের স্তুপ, যে কারণে আগুন নিভাতে সময় লেগেছে।

বঙ্গবাজারের ইতিহাস

১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৬৯৭ একর জমি পায় ঢাকা সিটি করপোরেশন। সেখানেই গড়ে ওঠে বঙ্গবাজার।
১৯৯৫ সালে মার্কেট সমিতি নিজ খরচে তিন তলা বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স মার্কেটটি নির্মাণ করে।

এদিকে বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ড ও পরবর্তী কার্যক্রম তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির কথা জানিয়ে এর আগে ১০ বার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ব্যবসায়ীরা গুরুত্ব দেননি। উল্টো মার্কেটটি ভাঙা বা উচ্ছেদ করে নতুন ভবন নির্মাণের বিরোধিতা করে তারা আদালতে গেছেন। সেখানে ভবন নির্মাণে আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে ২০১৬ সালে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়। মোট ১৪১টি গাড়ি পার্কিং ও ৪ হাজার ৪১৩টি দোকানঘরের সংস্থান রেখে প্রতি ফ্লোর ৬৭ হাজার ৩৩২ দশমিক ৫৩ বর্গফুট ধরে ১০তলা (স্টিল স্ট্রাকচার) বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ইজিপি প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন দরদাতাকে ২০১৯ সালের জুন থেকে কাজ শুরুর জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়।

সেই লক্ষ্যে ২০১৯ সালে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতিকে ৩০ দিনের মধ্যে মার্কেটটি খালি করে দিতে চিঠি দেয়া হয়। এরপর উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তিনটি মামলা করেন হাইকোর্টে। সেই প্রেক্ষাপটে ওই চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করে দেন হাইকোর্ট। এখন পর্যন্ত সেই স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত