জমি দখলে বিধবার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল সন্ত্রাসীরা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৪৩ এএম

জমিজমা নিয়ে বিরোধে পাবনায় এক বিধবা বৃদ্ধার বাড়ি এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার ভোরে সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের নলমুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পাবনা সদর থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নলমুড়া গ্রামের মৃত আবুল করিম মাস্টার তার বসতভিটা দুই স্ত্রীর মাঝে বণ্টন করে দেন। কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী মালা খাতুন তার সম্পত্তি প্রতিবেশী মজনুর কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে মজনু ও তার ছেলেরা আবুল করিমের প্রথম স্ত্রী হাসিনা খাতুনের সম্পত্তিও জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল।

ভুক্তভোগী হাসিনা খাতুন জানান, সোমবার ভোরে মজনু ও তার ছেলে আলিফ, সোহেল, জুয়েলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের সন্ত্রাসী দল তার বাড়িতে হামলা করে। তারা বাড়ির লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লাঠি, রড দিয়ে বাড়ির আসবাব ভাঙচুর করে। পরে এক্সকাভেটর দিয়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে যায়।

হাসিনা খাতুনের মেয়ে শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘সাহরি খেয়ে শুইছি। ভোর ৬টার দিকে মজনু ও তার ছেলেরা এসে অস্ত্রের মুখে আমাদের জিম্মি করে বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। চিৎকার করলে হত্যার হুমকিও দেয়।’

প্রত্যক্ষদর্শী কালাম হাজি বলেন, ‘ভোরের দিকে বিকট আওয়াজ শুনে দ্রুত বের হয়ে দেখি মজনু ও তার ছেলেরা মৃত করিম মাস্টারের বাড়ি ভাঙচুর করে বেরিয়ে যাচ্ছে। একজন বৃদ্ধার বাড়িতে এমন হামলা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।’

মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু বলেন, ‘ওই বিধবার জমি নিয়ে মজনু ও তার ছেলেরা এর আগেও ঝামেলা করে। থানায় মামলাও হয়। এরপর ওই জমিতে অবৈধ প্রবেশে কোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আমি এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’

অভিযুক্ত মজনু ও তার ছেলেরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সদর থানার ওসি কৃপা সিন্ধুবালা বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মজনু ও তার ছেলেরা পলাতক রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত