অগ্রিম-দ্বিগুণ পারিশ্রমিকেও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৩৫ পিএম

কুমিল্লা ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কৃষকরা পাকা ধান কাটা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। ধান কাটার মৌসুমে রোজা ও ঈদ পড়ায় এবার দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। এতে অনেক কৃষক এখনো পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেননি। ঈদ পার হওয়ার পর ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিলেও শ্রমিক সংকটে কৃষকরা এখন দিশেহারা। অগ্রিম কিংবা দ্বিগুণ টাকার প্রস্তাব দিয়েও শ্রমিক মিলছে না বলে গৃহস্থরা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আতঙ্কে দিন পার করছেন তারা।

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) : কৃষকরা জানান, একযোগে ধান পাকার কারণে এ সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পার্বতীপুরে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা এখন হন্যে হয়ে কৃষিশ্রমিক খুঁজছেন। বিঘাপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার টাকা দিয়েও কৃষিশ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন, বাস টার্মিনাল, ভবানীপুর বাজার, রেলওয়ে পার্ক, থানা মোড়, ঢাকা মোড়, বড়পুকুরিয়া বাজার ও মধ্যপাড়া বাজারে কৃষিশ্রমিক সকালে কাজের জন্য সমবেত হতেন। কিন্তু এসব স্থানে এখন তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। জমির মালিকরা

কৃষিশ্রমিকের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। শ্রমিক পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেলে জামাই আদর করে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক কৃষক শ্রমিকদের অতিরিক্ত মজুরি, তিন বেলা খাবার ও রাতে থাকার ব্যবস্থাও করছেন।

পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান বলেন, এবার উপজেলায় ২২ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এ অঞ্চলে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।

কুমিল্লা : এ মৌসুমে ধান কাটতে শ্রমিক সংকটে পড়েছেন কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক। দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। অন্যদিকে ব্যাপকহারে চাহিদা ভেড়েছে হার্ভেস্টার যন্ত্রের। এ যন্ত্রের সাহায্যে একসঙ্গে ধান কাটা ও মাড়াই দিয়ে ধান সংগ্রহ করা সহজ হলেও গবাদিপশুর খাদ্য সংগ্রহ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পাড়েছেন তারা। কিন্তু পাকা ধান কাটা জরুরি বলে উপায়ও নেই। অনেকে বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে ধান কাটছেন। বাড়তি পারিশ্রমিক দিয়ে কেউ শ্রমিক পেলেও এর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে লোকসান হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

জানা যায়, বর্তমানে লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও লালমাই উপজেলার হাজার হাজার কৃষক বোরো ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। প্রতি জন শ্রমিক দৈনিক ১ হাজার টাকা করে দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছেন না। আবার চুক্তিতে প্রতি শতক ৭০০ টাকা করে দিয়েও সিরিয়াল দিতে হয় কৃষকদের। কেউ কেউ হার্ভেস্টার যন্ত্রের সাহায্যে প্রতি কানি (৪০ শতক) জমির ধান কাটছেন ১০-১২ হাজার টাকায়।

লাকসামের মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউপির কৃষক একরামুল হক বলেন, ‘১২০ শতক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। ধানও ভালো হয়েছে। গত তিন দিন ধরে ধান কাটার শ্রমিক খুঁজতেছি, পাচ্ছি না। দৈনিক হলে দৈনিক, আর চুক্তি হলে চুক্তি। ধান কেটে ঘরে তুলতে হবে। এখন রোদ আছে। ধান আর খড়গুলো শুকিয়ে ঘরে তুলতে হবে। কী করব দ্বিগুণ-তিনগুণ খরচ বেড়ে যাবে। খরচের দিকে তাকিয়ে থাকলে ধান ঘরে তোলা হবে না।’

নাঙ্গলকোটের মৌকরার গোমকোট গ্রামের কৃষক সাগর বলেন, ‘৪ একর জমির ধান একসঙ্গে পাকা ধরছে। রংপুরের শ্রমিক দিয়ে চুক্তিতে কিছু ধান কাটাচ্ছি। তাও প্রতি একর ১৪ হাজার টাকায়। বাকিগুলো হার্ভেস্টার যন্ত্রে কাটার চিন্তা আছে।’

কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সব উপজেলায় একসঙ্গে ধান পাকার কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রত্যেক শ্রমিক ধান কাটায় দিনপ্রতি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা নিচ্ছেন। সংকট নিরসনে জেলার ১১টি উপজেলায় ১২৪টি হার্ভেস্টার মেশিন দেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত