প্রসূতির পেটে গজ, ক্লিপ রেখে সেলাই, ১১ দিন পর মৃত্যু

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৩৯ পিএম

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় প্রসূতির পেটে গজ, তুলা ও ক্লিপ রেখে সেলাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১১ দিন যন্ত্রণায় ভুগে গত ২৪ এপ্রিল রত্না বেগম নামের ওই প্রসূতি মারা যান। বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার জানাজানি হয়। 

স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন পেটে রক্ত জমাট বেঁধে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রত্না বেগমের মৃত্যু হয়েছে।

রত্নার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল পেটে ব্যথা নিয়ে মধুখালী উপজেলা সদরের সুমি প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে চিকিৎসা নিতে যান বাগাট ইউনিয়নের মিটাইন গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী রত্না বেগম। সেখানে তাকে সিজারিয়ান অপারেশন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই রাতেই মাগুরা থেকে এক চিকিৎসক এসে তার অপারেশন করেন। গত ২৩ এপ্রিল ওই প্রসূতির রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল মারা যান রত্না।

রতœার স্বামী মনিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, ১৩ এপ্রিল সুমি প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে আমার স্ত্রী পুত্র সন্তান জন্ম দেন। নবজাতক অসুস্থ হওয়ায় তাকে ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েকদিন পরে আমার স্ত্রীর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তখন তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ডাক্তার দেখে বলেন, সিজারের পরে যে সেলাই করা হয়েছে তার মাঝে ফাঁকা রয়েছে, সুতা মিলে নাই, ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে পচে গেছে। এরপর ডাক্তারের পরামর্শে রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি সেখানে ডাক্তারের কাছে সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই রোগীর যিনি সিজারের পর সেলাই করেছেন সেটি ভালো হয়নি, ফুটো রয়েছে। এরপর আল্ট্রাসনোগ্রাম করে অপারেশন করা হলে দেখা যায়, ভেতরে তুলা, গজ ও একটি ক্লিপ রয়েছে। এ ছাড়া বাচ্চার নাড়িও ঠিকভাবে কাটা হয়নি, ভেতরে রয়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী সুমি আক্তার বলেন, আমাদের ক্লিনিকে ওই রোগীর সিজার করেছেন ডা. মাসুদুল হক। সিজারের পরেও রোগী ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। এরপর সুস্থ অবস্থায় চার দিন পর বাড়ি ফিরে যান। এরপর রোগী ও তার স্বজনরা আমাদের কাছে আসেননি এবং কিছুই জানাননি। এমনকি রোগীর মৃত্যুর পরও আমাদের কিছু জানাননি। তবে লোক মারফত জানতে পেরেছি তিনি মারা গেছেন।

রত্না বেগমকে সিজারিয়ান অপারেশন করার বিষয়টি অস্বীকার করেন ডা. মাসুদুল হক। তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছর মধুখালী যাওয়া হয় না। আমি কীভাবে সিজার করব?’

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুস সালাম বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা

নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত