জুন থেকে নতুন ৩ ধরনের নকশা দেওয়া বাধ্যতামূলক

আপডেট : ০৫ মে ২০২৩, ০২:৩৫ এএম

ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিতে আগামী জুন থেকে স্থাপত্য নকশার পাশাপাশি আরও তিন ধরনের নকশা জমা দিতে হবে। টেকসই ও নিরাপদ ভবন নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ভবনের কোনো নকশার ব্যতয় ঘটলে ভবন মালিকের পরিবর্তে যে বা যারা ওই নকশার সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাদেরকে জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনা হবে। পেশাজীবী ইনস্টিটিউটগুলোর মাধ্যমে তাদের শাস্তি কার্যকর করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম-বাংলাদেশ (ইউডিজেএফবি) আয়োজিত ‘বারবার অগ্নিদুর্ঘটনার কারণ : প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক নগর সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় রাজউক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা এসব কথা বলেন।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, এখন শুধু স্থাপত্য নকশায় ভবনের নির্মাণ অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী ১ জুন থেকে ফায়ার, প্লাম্বিং ও স্ট্রাকচারাল নকশা ছাড়া কোনো ভবনের নির্মাণ অনুমোদন দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনাও করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তারাও আমাদের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।  

ইউডিজেএফবির সভাপতি অমিতোষ পাল নগর সংলাপের সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান। এ সময় তিনি বলেন, ঢাকার সব ভবনের বিস্তারিত জরিপ এবং ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অগ্নিদুর্ঘটনার প্রতিরোধে ইমারত নির্মাণ, জলাধার এবং ভূমির যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবহার বাস্তবায়ন জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনাসহ কোনো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভবন মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলে নেওয়া হয়, শাস্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে ভবনের যিনি নকশা পরিকল্পনা করেছেন, ভবনের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাদের কিছুই হয় না। এটা এক প্রকার অন্যায়।

অন্যদের মধ্যে নগর সংলাপের আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ, ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী কামরুল হাসান, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাজু আহমেদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত