তীব্র গরমে যখন অতিষ্ঠ জনজীবন ঠিক তখন বগুড়া শহরের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে দশম শ্রেণির ৭ শিক্ষার্থী শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে শরবত বিতরণ করছে। প্রতি শনিবার ৪০০ জনের বেশি শ্রমজীবীকে তারা বিনামূল্যে শরবত পান করাবে বলে জানা গেছে।
শনিবার দুপুরে ২টার দিকে শহরের সাতমাথায় জিলা স্কুল গেটের পাশে গিয়ে দেখা যায় ৭ শিক্ষার্থীকে। পাশে একটি টেবিলে ফিল্টার করা পানিতে বরফ দেওয়া রয়েছে, পাশে ব্যাগভর্তি ২ শতাধিক লেবু, বিট লবণসহ শরবত তৈরির উপকরণ। শরবত তৈরি করে শিক্ষার্থীরা রিকশাচালক, দিনমজুর, ভিক্ষুক, দুস্থ, ছিন্নমূল মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে। আর তারা তা পান করে শিক্ষার্থীদের দোয়া করছেন।
বিনামূল্যে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে শরবত বিতরণের এই কাজ শুরু করেছে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া নুরুন আলা নূর ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র রোহান, সাদিক, সামিউল, আব্দুল্লাহ, হাসিব, অলি, বগুড়া পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন। তারা ৭ বন্ধু শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিন আমরা পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আর গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন শ্রমজীবী মানুষ। তাই এসব দিনমজুর, অসহায়, ভিক্ষুক, দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। যাতে করে তারা শরবত পান করে স্বস্তি পান। এই আয়োজনের অর্থের বিষয়ে তারা বলেন, আমরা শিক্ষার্থী। বাড়ি থেকে প্রতিদিন রিকশাভাড়া, টিফিনের টাকা দেয়। আমরা সেখান থেকে টাকা বাঁচিয়ে জমা করি। আর সেই জমার টাকা দিয়ে শ্রমজীবী মানুষকে বিনামূল্যে শরবত পান করানোর পরিকল্পনা করি।
বিনামূল্যে শরবত পান করা রিকশাচালক শফিকুল, সন্তোষ, রবিউল, মিলন, বেলাল, মোমিন জানান, রিকশা চালাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ক্লান্তি জুড়াতে বিনামূল্যে শরবত পেয়ে ভালো লাগছে।
অন্ধ ভিক্ষুক খলিল ও খায়রুল। তারা দুই ভাই একসঙ্গে ভিক্ষা করেন। সাতমাথায় বিনামূল্যে শরবত পান করে খুশি তারা।
