বাফুফের দুর্নীতি তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ

আপডেট : ১৬ মে ২০২৩, ০১:৩৮ এএম

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্তাদের দুর্নীতির অনুসন্ধান চেয়ে ৩ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এরপর রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করেন। আর গতকাল শুনানি শেষে বাফুফের সভাপতি সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী, অনিয়ম-জালিয়াতির দায়ে ফিফার নিষেধাজ্ঞা পাওয়া সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ নিয়ে অবশ্য প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি সালাউদ্দিন। আর বাফুফের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন বলেছেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা গ্রহণের আগে তারা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।

হাইকোর্ট দুদককে সম্ভাব্য চারমাসের মধ্যে অনুসন্ধান করতে বলেছে। গতকাল রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেয়। আদালত বলে, বাফুফেতে ফিফা ও সরকারের দেওয়া অর্থ নিয়ে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতির বিষয়ে অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দেওয়া হলো। আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন নিজেই শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুদ্দিন খালেদ ও দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন। কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন ও আবু নাঈম সোহাগের পক্ষে আইনজীবী মারগুব কবির শুনানিতে অংশ নেন। হাইকোর্টের রুলে বাফুফের সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম নিতে অনুসন্ধানে বিবাদীদের ব্যর্থতা/নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্র্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুদক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ১৪ এপ্রিল বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহাগকে চারটি অভিযোগে ২ বছর নিষেধাজ্ঞা ও ১০ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করে ৫২ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করে ফিফা। এ নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। সোহাগ যাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বাফুফেতে রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন, সেই শীর্ষ কর্তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি ওঠে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্য থেকে। সংবাদমাধ্যমে ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে বাফুফের নানা অনিয়ম-জালিয়াতির খবর। ফিফার সিদ্ধান্ত শুরুতে যেন মানতেই পারেননি সালাউদ্দিন। দীর্ঘদিনের সহচরকে এভাবে নিষিদ্ধ হতে দেখতে চাননি। তাই ফিফার সিদ্ধান্তের পর প্রথম মিডিয়ার সামনে এসে সালাউদ্দিন পরোক্ষভাবে সোহাগের পাশে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন। নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা করে সোহাগকে বাফুফেতে আজীবন নিষিদ্ধ করেন সালাউদ্দিন। তারপরও সোহাগের ছায়া থেকে গেছে বাফুফেতে। প্রশ্নবিদ্ধ তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দীর্ঘ এক যুগ জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিলকে। যিনি তদন্ত শুরুতেই কালক্ষেপণ করে ফের প্রশ্ন উসকে দেন। এর মাঝে সালাউদ্দিন ও নাবিলের ক্রীড়া সাংবাদিকদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য ফাঁস করে দেশ রূপান্তর। যা এই দুই কর্তাকে আরও কোণঠাসা করে ফেলে। দুজনই আলাদা আলাদা বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারপরও তাদের হুঁশ হয়নি। সোহাগ ছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে, তাদের চাকরিতে বহাল রেখে তদন্ত শুরু করে নাবিল নেতৃত্বাধীন কমিটি। দুর্নীতির বেড়াজালে বন্দি বাফুফের বিরুদ্ধে এরপরও দুদকের কাছে নালিশ নিয়ে যান আইনজীবী সুমন। এরপর হাইকোর্টের কাছে রিট করেন। হাইকোর্টের নির্দেশনার পর দুদকের আর হাত-পা গুটিয়ে রাখার উপায় থাকল না। ফলে আবারও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সালাউদ্দিন গংকে।

এ নিয়ে গতকাল সালাউদ্দিনের বক্তব্য পেতে দুপুর থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন সংবাদকর্মীরা। বাফুফে ভবনে প্রবেশের সময় সালাউদ্দিন নিজেই বলেছিলেন এ ব্যাপারে কথা বলবেন। তবে সন্ধ্যা গড়ানোর পর ভবর ত্যাগের সময় তিনি কথা না বলে বল ঠেলে দেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনের কোর্টে। ইমরানও দিয়েছেন সতর্ক জবাব, ‘আমরা এখন পর্যন্ত মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা পাইনি। তার আগেভাগে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত