রিয়ালের জালে ম্যানসিটির চার

আপডেট : ১৯ মে ২০২৩, ০৬:৫০ এএম

রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে প্রথম লেগের আগে ওয়েইন রুনি বলেছিলেন ‘ম্যানসিটি রিয়ালকে শুধু হারাবেই না, রীতিমতো উড়িয়ে দেবে।’ সেই ম্যাচে পারেনি পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ১-১ গোলে ড্র করে এসেছিল তারা। অনেকেই ভেবেছিল গতবারের মতো এবারও সেমিফাইনালেই বুঝি শেষ হয়ে যায় সিটির দৌড়। কিন্তু বুধবার ইতিহাদে রিয়ালকে ৪-০ গোলে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

ইতিহাদে ম্যাচটি যদি রিয়ালের জন্য হয়ে থাকে পরীক্ষা তবে ভুল প্রস্তুতি নিয়েছিল তারা। তাই তো প্রথমার্ধে সিটির পায়ে ৭২ শতাংশ সময় বল ছিল। গোলমুখে তারা শট নেয় ১৩টি, যার ৫টি ছিল লক্ষ্যে। আর রিয়াল নিতে পারে মাত্র দুটি শট। দ্বিতীয় লেগের আগে অনেকে ভেবেছিলেন আর্লিং হালান্ডই হবেন গার্দিওলার বাজির ঘোড়া। তবে এদিন নায়ক বার্নার্দো সিলভা। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করে জয়ের পথ দেখিয়েছেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালকে কিছুটা খুঁজে পাওয়া গেলেও আরও দুই গোলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। ৭৬ মিনিটে আকাঞ্জি এবং বদলি নেমে ম্যাচের যোগ করা সময়ে গোল করেন জুলিয়ান আলভারেজ।

এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সিটি বস পেপ গার্দিওলা সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব না।’ গার্দিওলা নিজের কথা রেখেছেন। এই ম্যাচে ট্যাকটিক্যালি বড় কোনো চমক দেননি। তবে উল্টোপথে হেঁটেছেন আনচেলত্তি। প্রথম লেগে হালান্ডকে আটকে রাখা আন্তোনি রুডিগারকে বেঞ্চে রাখেন। রিয়াল কোচের এই সিদ্ধান্ত দলকে বেশ ভুগিয়েছে। প্রথম লেগের মতো এদিন নি®প্রভ ছিলেন না হালান্ড। থিবো কোর্তোয়া বাধা হয়ে না দাঁড়ালে গোল পেতেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।

ম্যাচে আনচেলত্তির ট্যাকটিকস নিয়ে সমালোচনার জায়গা আরও আছে। একাদশে কামাভিঙ্গাকে খেলিয়েছেন লেফট ব্যাকে। বারবার পজিশন হারিয়েছেন এই ফরাসি। ম্যানসিটি পুরো মাঠ জুড়ে খেলেছে। মিডফিল্ডে তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেরে ওঠেননি ৩৭ বছরের লুকা মদ্রিচ। অবশ্য রিয়ালের কাছে মদ্রিচের ভালো বিকল্পও ছিল না। বেনজেমা এদিন যেন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। ভিনি-রদ্রিগো ব্রাজিলিয়ান জুটিও কার্যকর কিছু করতে পারেননি।

ম্যাচ শেষে সিলভা বলেন, ‘আমাদের সুন্দর একটি রাত কেটেছে। তবে জানতাম এটি কঠিন ম্যাচ হবে। এই জয়ে আমরা আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছে। এটি দারুণ অনুভূতি।’

গেল মৌসুমে সেমিতে প্রথম লেগ ছিল সিটির মাঠে। সেবার গার্দিওলার দল জিতেছিল ৪-৩ এ। তবে দ্বিতীয় লেগ ৩-১ এ জিতে ফাইনালে গিয়েছিল রিয়াল। এবার প্রথম লেগ ১-১ ড্র হয় বার্নাব্যুতে। দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে রিয়ালকে ছিটকে দিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে গার্দিওলার দল। বুধবারের জয়ে মৌসুমের প্রতিশোধও নেওয়া হলো পেপ গার্দিওলার। ‘আজ ম্যাচের ১০-১৫ মিনিট পরই মনে হলো, গত মৌসুমের ম্যাচে যা হয়েছিল, এক বছর ধরে বয়ে চলা সেই যন্ত্রণার উপস্থিতি এখানে ছিল। গত মৌসুমের ওই অভিজ্ঞতা খুবই কঠিন ও কষ্টের ছিল। ওই সময় আমাদের ওই তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। তবে ফুটবল ও ক্রীড়া সবসময়ই আরেকটি সুযোগ করে দেয়।’

ম্যানসিটির সামনে এখন ট্রেবল জয়ের সুযোগ। রবিবার ইংলিশ লিগে চেলসির বিপক্ষে জিতলে শিরোপা উঠবে তাদের ঘরে। এফ এ কাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ফাইনালও নিশ্চিত। গার্দিওলা স্বপ্ন দেখছেন ট্রেবলের, ‘আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি (ট্রেবল জয়ের লক্ষ্যে)। এখন আমরা এটা নিয়ে ভাবতে পারছি। স্রেফ তিনটি ম্যাচ দূরত্বে আছি আমরা। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় একটি করে ম্যাচ জেতা প্রয়োজন।’

কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে গার্দিওলার শততম জয় এটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত