ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) বার্ষিক সাধারণ সভা আজ। বাংলাদেশের পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠনের (কোয়াব) বর্তমান সভাপতি নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল। ২০১৯ সালের অক্টোবরে ধর্মঘটে গিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা, তাদের ১১ দফার দাবির প্রথমটিই ছিল কোয়াবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ। চার বছর পেরিয়ে গেলেও তারা আছেন স্বপদেই, এবার বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচনের সম্ভাবনাও কম; বরং যারা আছেন, তাদেরই নিজ নিজ পদে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
২০১৯ সালে ক্রিকেটাররা যখন ধর্মঘটে গিয়েছিলেন, তখন ১১ দফা দাবির প্রথমটিতেই ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হয়ে আসা নাঈম ইসলাম বলেছিলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের যে সমিতি আছে (কোয়াব), তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হয়ে আমাদের জন্য যে কিছু করবে, সেটি আমরা কখনো দেখিনি। প্রথম দাবি হচ্ছে, যারা এখন এই সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক আছেন, তাদের দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে। সামনে কে এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি হবেন, সেটা আমরা ঠিক করব। নির্বাচন করে ঠিক করব।’ এরপর পদ্মা-মেঘনায় অনেক জল গড়িয়ে পদ্মা নদীর ওপর সেতু হয়ে গেছে, তবুও কেউ পদত্যাগ করেননি এবং নতুন কারও নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনাও কম।
কোয়াবের সভাপতি নাঈমুর রহমান দুর্জয় বিসিবির একজন পরিচালক, দেবব্রতও ম্যাচ রেফারি, লজিস্টিক ম্যানেজারসহ নানান ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করেন। এই দুজনের পক্ষে খেলোয়াড়দের সংগঠনের হয়ে বিসিবির সঙ্গে দর-কষাকষি করা কতটা বাস্তবসম্মত, সেই প্রশ্ন অনেক ক্রিকেটারের। কিন্তু নির্বাচনের মাঠ ফাঁকা। বিশ^কাপের বছরে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কেউ অথবা সদ্যই জাতীয় দলের বাইরে যাওয়া কেউও এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী ননÑ এমনটাই শোনা যাচ্ছে। দেশ রূপান্তরকে দেবব্রত পাল বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে। বার্ষিক সাধারণ সভায় যদি কাউন্সিলররা বলেন তাহলে নির্বাচন হবে। আমরা তো থাকতে চাই না। কেউ যদি আসতে চায়, তাহলে তাদের স্বাগত জানাই, মোস্ট ওয়েলকাম।’
শনিবার সকাল ১০-৩০ মিনিট থেকে মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া প্লাজায় হবে কোয়াবের বার্ষিক সাধারণ সভা। বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রিমিয়ার লিগ এবং জাতীয় দলের আয়ারল্যান্ড সফরের পর বার্ষিক সাধারণ সভার দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে, যদিও সিরিজ শেষে ছুটি নিয়ে ইংল্যান্ডে থেকে যাওয়ায় তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও তাইজুল ইসলাম থাকতে পারছেন না এই বার্ষিক সভায়। সিলেটে চলে যাওয়ায় থাকতে পারবেন না পেসার এবাদত হোসেনও। তবে ভিডিও বার্তায় নিজেদের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, ইমরুল কায়েস ও তাসকিন আহমেদ।
দেবব্রত জানান, বেশ কিছু প্রধান আলোচ্য বিষয় আছে কোয়াবের আজকের আয়োজনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নারী ক্রিকেটারদের সদস্যপদ প্রদান। দেবব্রত বলেন, ‘এই বার্ষিক সভায় নারী ক্রিকেটারদের কোয়াবের সদস্যপদ দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হবে।’ বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এ ব্যাপারে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য একটা বড় স্বীকৃতি। দেশের ক্রিকেটের কল্যাণের জন্য পুরুষ ও নারী ক্রিকেটাররা একই সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে।’ জ্যোতি আরও বলেন, ‘এবারই প্রথম কোয়াবের কোনো বার্ষিক সভায় যাচ্ছি। শুনেছি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ হয়।’
সিলেট ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান তাজিন বলেন, ‘আমি বার্ষিক সভায় যোগ দিতে আসব; যা শুনেছি ৪২টা জেলার কমিটি করে দেওয়া হবে। অনেকটা বিসিবির আদলেই কাউন্সিলর মনোনীত করা হবে এবং সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রধান হবেন বিভাগের কাউন্সিলর। কোনো নির্বাচনের কথা শুনিনি। শুনেছি তামিম-সাকিবসহ সিনিয়র ক্রিকেটাররাই বলেছেন দাদাকে (দেবব্রত পাল) থেকে যেতে।’
নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন, প্রার্থিতা ঘোষণা ও প্রত্যাহার, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের মতো কাজগুলো এখনো না হওয়ায় বোঝাই যাচ্ছে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কোনো তারকা ক্রিকেটার তার প্রার্থিতার ঘোষণাও দেননি। তাই বলা যায় বার্ষিক সভার আনুষ্ঠানিকতা শেষে নাঈমুর এবং দেবব্রত আবারও ফিরবেন স্বপদে।
দেবব্রত আরও জানিয়েছেন, এবার তারা সম্মাননা দেবেন ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, ঘরোয়া লিগে খেলা খেলোয়াড়, আম্পায়ার, অন্যান্য ম্যাচ অফিশিয়ালসহ অনেককেই সম্মাননা দেওয়া হবে এবারের বার্ষিক সাধারণ সভায়। পরপারে চলে যাওয়ারা পাবেন মরণোত্তর সম্মাননা।
