ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যূনতম কর শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা আছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ হার কমিয়ে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার।
আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য কেমন বাজেট প্রয়োজন, এমন প্রশ্নের উত্তরে দেশ রূপান্তরের কাছে শমী কায়সার বলেন, অনলাইন শপ বা ই-কমার্স পণ্য কেনার ক্ষেত্রে মার্চেন্ট, ভেন্ডর, সরবরাহকারী, জোগানদার, প্রস্তুতকারী বা আমদানিকারককে তার পাওনা পরিশোধের ওপর উৎসে আয়কর পরিশোধ করতে হয়। এ কারণ দেখিয়ে ৩ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ অতিরিক্ত দাম দাবি করে। অথচ সাধারণ বা ভৌত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা প্রচলিত দোকান বা শপিং মলের ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা না থাকায় পণ্যের দাম কম থাকে। এর ফলে সাধারণ ক্রেতারা একই পণ্য অনলাইন শপ বা ই-কমার্স থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হয়। তাই আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫২(২) এবং বিধি ১৬ থেকে ই-কমার্স খাতকে বাদ দিয়ে উৎস কর কাটা থেকে অব্যাহতি প্রদানের অনুরোধ করছি। এ বিধান অন্তত ১০ বছরের জন্য কার্যকর করতে হবে।
শমী কায়সার বলেন, নারীদের পক্ষে আলাদা দোকান নিয়ে ই-কমার্সের ব্যবসা করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তাদের নিজ বাসার ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স করার সুবিধা দিতে হবে। তারা যেন ডিবিআইডির মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করতে পারে। এসব বিষয় আগামী অর্থবছরের বাজেটে আনতে হবে।
ব্যবসায়ী এ নেত্রী আরও বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই নারীদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়া তাদের ট্রেড লাইসেন্স ফিও কমানো প্রয়োজন। কারণ ডিজিটাল মাধ্যমে যে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করছে তা নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী অধিকার তৈরিতে যুগপৎ ভূমিকা রাখছে। আমরা শুধু বর্তমানে এর প্রবৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি। অচিরেই দেশের অর্থনীতিতেও প্রতিফলন দেখতে পাব। তিনি বলেন, যেসব লজিস্টিক বা পণ্য ডেলিভারির সেবা অন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পণ্য ডেলিভারি করে, যা তারা একটি চার্জের বিনিময়ে ব্যবসায়িক সেবা হিসেবে প্রদান করে। এ ক্ষেত্রে ডেলিভারি চার্জের ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। যা বর্তমানে ১৫ শতাংশ আছে। এ হার পণ্যমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। দামের বাইরেও ক্রেতাকে এ হার পাওনা হিসেবে শোধ করতে হয়। এতে ক্রেতার খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
শমী কায়সার বলেন, ই-ক্যাব, ই-কমার্স খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। করোনাকালে দেশের মানুষের পাশে থেকে সব ধরনের ওষুধ, কোরবানি পশু, আম, সাশ্রয়ীমূল্যে টিসিবির পেঁয়াজ ও নিত্যপণ্য সেবা দিয়ে করোনা সংক্রমণ রোধে ভূমিকা রেখেছে। এ খাতে প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষুদ্র ও তরুণ উদ্যোক্তা। করোনাকালে তিন লাখ লোকের কর্মসংস্থান এবং বর্তমানে প্রতিদিন দুই লাখ পরিবারকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে এ খাত। যার পরিপ্রেক্ষিতে ই-ক্যাব অর্জন করেছে জাতীয় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২০’ ও ’২১। তাই এ খাতে নীতি সহায়তা দেওয়া হলে আগামীতে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, প্রথম যে বিষয়টি একেবারেই বেসিক সেটা হচ্ছে ই-কমার্সের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি বিধিতে ই-কমার্সের সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে সরলীকরণ করা হয়েছে। এখানে একটি সাধারণ ই-কমার্স শপ এবং মার্কেট প্লেস উভয়ের ব্যবসা পদ্ধতি এবং রেভিনিউ মডেল কিন্তু এক নয়। আমরা আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ দুটোকে আলাদা করার প্রস্তাব করছি। এতে করে পলিসি প্রণয়নের সুবিধা হবে। কারণ এখানে বেশিরভাগ উদ্যোক্তা কিন্তু ক্ষুদ্র এবং অতিক্ষুদ্র। তাই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কথা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ব্যবসায়ী এ নেত্রী বলেন, প্রচলিত ব্যবসা বা দোকানের সঙ্গে বেশ কিছু জায়গায় ভিন্ন নীতির কারণে শুরুতেই একটা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে এ খাতের উদ্যোক্তাদের। এ বিষয়ে আসছে বাজেটে নজর দিতে হবে।
শমী কায়সার বলেন, আমাদের অনেক দাবির মধ্য থেকে কয়েকটা মাত্র আমরা চেয়ে আসছি গত কয়েক বছর ধরে। গত ২০-২১ অর্থবছরে একমাত্র দাবি পূরণ হয়েছে, সেটা হলো ই-লার্নিং ও অনলাইন প্রশিক্ষণের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার। গত তিন বছরে এ খাতে উদ্যোক্তার সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। দ্রুতই বাড়ছে এ সংখ্যা। এ খাতের সমস্যা সমাধানে সরকার নজর দিলে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।
