সুষ্ঠু ভোটের শঙ্কা নিয়েই আজ শেষ হচ্ছে প্রচারণা

আপডেট : ২৩ মে ২০২৩, ০২:৩০ এএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে। শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আজমতউল্লা খান কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন তার জন্য ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন। এদিকে প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এ স্বতন্ত্র প্রার্থীর। গত রবিবার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন ও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজীপুর সিটিতে ভোটের মাঠে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সরকারদলীয় সমর্থিত প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি। প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগ সমর্থক একাধিক প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫৭টি ওয়ার্ডে বিএনপির ২৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সম্প্রতি তাদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তারপরও নির্বাচনী মাঠে তারা থেকে যাচ্ছেন। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির এক নেতা কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতও হয়েছেন। তবে মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় বাধা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ।

আজমত উল্লা খান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় দলের জনপ্রিয়তা, ব্যক্তি আজমত উল্লার জনপ্রিয়তা ও সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি বেশি থাকায় তিনি প্রচার-প্রচারণায় অনেক এগিয়ে আছেন। ভোটের মাঠে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাজে লাগিয়ে ভোটের ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় আছেন। গত রবিবার তিনি ২৮ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দিয়ে গাজীপুরকে স্মার্ট ও দুর্নীতিমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন টেবিল ঘড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোটের মাঠে ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছেন। তিনি মূলত তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে নির্বাচনী মাঠে আজমত উল্লা খানের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ৯ মে থেকে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে আজমত উল্লা খান প্রচরণায় অনেকটা পেছনে ছিলেন। ক্রমেই তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তিনি নেতা হিসেবে অনেক বড় নেতা হলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল কম। তাছাড়া মিডিয়ার সঙ্গে ছিল তার দূরত্ব সবসময়।

জায়েদা খাতুনের যত অভিযোগ : টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় বের হলে টঙ্গীতে চারবার তার ওপর হামলা করা হয়েছে। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, কয়েকটি নির্বাচনে তার এজেন্টদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের কর্মী-সমর্থকদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় রাখলেও তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তার প্রচারণায় একাধিকবার গাড়ি থামিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। কর্মীদের মারধর, নির্যাতন ও প্রতিনিয়িত হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। টেবিল ঘড়ি প্রতীকের কর্মীদের প্রচারণায় বাধা ও ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে।

গাজী আতাউর রহমানের পক্ষে অভিযোগ : নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান। তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এমএ হানিফ সরকার রিটার্নিং অফিসারের কাছে গতকাল দুপুরে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

টঙ্গীর ভোটে ভাগ বসাবেন রনি : গাজীপুর সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। এর মধ্যে টঙ্গীতে ১৫টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ এবং সাবেক গাজীপুর পৌরসভাসহ সাবেক ছয়টি ইউনিয়ন বাসন, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, কাউলতিয়া, পুবাইল ও গাছায় মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৬ জন। আঞ্চলিকতার কারণে বিশাল এ ভোটের ব্যবধানের প্রভাব বিগত সংসদ নির্বাচন ও সিটি নির্বাচনেও পড়তে দেখা গেছে। এ ছাড়া টঙ্গী থেকে বিএনপি নেতা কারাবন্দি নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহনুর ইসলাম রনি হাতি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি টঙ্গী এলাকার বিশাল একটি অংশ তার বাক্সে ভরবেন বলে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের ধারণা।

২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে। নির্বাচনে ৪৮০ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৩ হাজার ৪৯৭ সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৬ হাজার ৯৯৪ পোলিং কর্মকর্তাসহ ১০ হাজার ৯৭১ জন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা থাকবেন।

প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচনে সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও এজেন্টদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে এলাকায় বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সোনিয়া হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিধানকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ একজন এসআই অথবা এএসআই ও চারজন কনস্টেবল, অস্ত্রসহ একজন আনসার, একজন অস্ত্রসহ এপিসি, লাঠিসহ চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষ আনসার-ভিডিপি সদস্যসহ ১৭ জন মোতায়েন থাকবে। আর সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ একজন এসআই অথবা এএসআই ও তিনজন কনস্টেবল, অস্ত্রসহ একজন আনসার, একজন অস্ত্রসহ এপিসি, লাঠিসহ চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষ আনসার-ভিডিপি সদস্যসহ ১৬ জন মোতায়েন থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত