মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার কালিগঙ্গা সেতুর পিলারের নিচ থেকে রাতের আঁধারে বালু তুলে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তিল্লি ইউপি চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম ধলার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে পুলিশ মাটি কাটার যন্ত্র ও বালু বোঝাই দুটি ট্রাক জব্দ করেছে।
জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি ইউনিয়নের কালিগঙ্গা নদীর ওপর প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণ করা হয় কয়েক বছর আগে। সেই সেতুর পিলারের নিচ থেকে রাতের আঁধারে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করছের তিল্লি ইউপি চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম ধলাসহ তার দলবল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, কালিগঙ্গা সেতুর নিচ থেকে বালু কাটায় হুমকির মুখে পড়েছে ১০ কোটি টাকার সেতু। মাটি কাটার প্রতিবাদ করলে নেমে আসে অত্যাচার নির্যাতন ও দেখানো হয় পুলিশের ভয়ভীতি এবং মামলার ভয়। ফলে কেউ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাইনা। তিল্লি ইউপি চেয়ারম্যান সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিম বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত বেশি হওয়ায় এমনিতেই পিলারের নিচ থেকে বালু মাটি সরে যায়। তারপর ভেকু দিয়ে যদি পিলারের নিজ থেকে মাটি তোলা হয় তাহলে চরম হুমকির মুখে পরবে সেতুটি। সেতুটি পরিদর্শন করে বালু খেকোদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, তিল্লি ইউপি সদস্য রতন মিয়া ও সিরাজুল হক চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে রাতের আঁধারে ১০ থেকে ১৫টি ট্রাকে করে বালু কেটে নিয়ে বিক্রি করছে।
ভেকুর মালিক আলামিন বলেন, তিন মাস আগে চেয়ারম্যান আমার কাছ থেকে ভেকু ভাড়া নিয়ে কাজ করছেন। রাস্তা মেরামতের কথা বলে ভাড়া নেন তিনি। কিন্তু কালিগঙ্গা সেতুর নিচ থেকে যে বালু তুলবেন তা আমাকে জানাননি।
তিল্লি ইউপি চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম ধলা বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি সড়ক বেহাল। মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য সড়ক উপযোগী করতে নদী থেকে বালু তুলে ওইসব রাস্তায় দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এসব করা হচ্ছে। চুরি করে বালু বিক্রি করা হয়নি। একটি কুচক্রি মহল আমার নির্বাচনী এলাকার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব কুৎসা রটাচ্ছে।
সাটুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস রাত ১২টার সময় কালিগঙ্গা সেতুর নিচ থেকে বালু তোলার যন্ত্র ভেকু ও দুটি ট্রাক জব্দের কথা স্বীকার করেছেন।
সাটুরিয়ার সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
