চিনির নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে

আপডেট : ৩০ মে ২০২৩, ০৫:৪৮ এএম

একই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চিনির বাজারও। বার্ষিক ২০ লাখ টন চাহিদার প্রায় পুরোটাই এসব গ্রুপের মাধ্যমে আমদানি হয়। ভোক্তাপর্যায়ে চিনির দাম কত হবে তা মূলত এরাই নির্ধারণ করে। এখন প্রতি কেজি চিনির খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। যদিও গত এক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিকভাবে চিনির দাম বাড়লেও এখন তা আবার কমতে শুরু করেছে। ১১ বছরের মধ্যে গত ২৭ এপ্রিল প্রতি পাউন্ড ২৭ সেন্ট ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ২৫ মে তা ২৫ সেন্টের নিচে নেমে এসেছে। ২০২০ সালের ২৭ এপ্রিল প্রতি পাউন্ড চিনির দাম ছিল ৯ সেন্টের সামান্য বেশি। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে গিয়ে ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে রয়েছে প্রয়োজনীয় এ পণ্যটি। ২৫ বছরের মধ্যে ২০১০ সালে সর্বোচ্চ পাউন্ডপ্রতি ৩৪ সেন্টে উঠেছিল এ পণ্যটির দাম। ট্রেডিং ইকোনমিকসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজির দাম পড়ে প্রায় ৫৯ টাকা।

মূলত ইন্টারন্যাশনাল সুগার অর্গানাইজেশন বৈশ্বিক উদ্বৃত্ত চিনির প্রক্ষেপণ কমিয়ে আনায় দাম বেড়ে যায়। সংস্থাটির প্রত্যাশা ছিল এ বছর ১৮ কোটি ৪ লাখ টন চিনি উৎপাদিত হবে। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রক্ষেপণ কমিয়ে ১৭ কোটি ৭৩ লাখ টন উৎপাদন হতে পারে বলে জানিয়েছে। ইউরোপ, চীন, থাইল্যান্ড ও ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে প্রত্যাশার চেয়ে কম চিনি উৎপাদন হতে পারে। অন্যদিকে এ বছর বৈশ্বিক পর্যায়ে চিনির চাহিদা কিছুটা বেড়ে ১৭ কোটি ৬৫ লাখ টনে উন্নীত হবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। অবশ্য আশার কথা হচ্ছে, শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ব্রাজিলে এবার ফসল কাটতে সুবিধা হবে, যেটি বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী। বৈশ্বিক চিনি রপ্তানির প্রায় ৪৫ শতাংশের জোগান আসে ব্রাজিল থেকে।

রোজায় এপ্রিলের শুরুতে প্রতি কেজি চিনির দাম সরকার ১০৪ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের প্রভাবে এক মাসের ব্যবধানে ফের ১৬ টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সরবরাহজনিত সংকট তৈরি করে চিনির দাম ১৩০-১৪০ টাকায় উন্নীত করা হয়। যদিও চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক থেকে ৮২-৮৩ টাকা দরে ২৫ হাজার টন চিনি কেনার চুক্তি করে সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত