পড়তে পারেন কৃষি ডিপ্লোমা

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৩, ১০:২৪ পিএম

বর্তমানে কর্মমুখী শিক্ষার উল্লেখযোগ্য একটা ক্ষেত্র কৃষি ডিপ্লোমা। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কম। আর এমন সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য সমস্যা মেটানোর জন্য উন্নত যেসব ফলনশীল শস্য আর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষিবিদরা, সেগুলোই কৃষকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা। লিখেছেন মো. মনিরুজ্জামান

নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকের সুবিধা-অসুবিধা এবং চাহিদার তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তাই নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি কৃষিতে ডিপ্লোমাধারীদের রয়েছে দেশের উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ। চাকরি করা ছাড়াও নিজ উদ্যোগে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুবিধা তো আছেই। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের তথ্যানুযায়ী কৃষি ও মৎস্য সেক্টরে প্রশিক্ষিত জনসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৩টি সরকারি ও ১০১টি বেসরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে সারা দেশে। এগুলোতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে দুই রকম। সরাসরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় ইনস্টিটিউটে থেকে পড়াশোনা করতে হয়। আর চাকরিজীবীদের জন্য দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে সেমিস্টার সিস্টেমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহারিক ক্লাস হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে সপ্তাহে একটি ক্লাস ও পরীক্ষায়ই অংশ নিতে হয় শুধু। এই পদ্ধতিতে পড়তে পারবে শুধু চাকরিজীবীরা। অন্যান্য ডিপ্লোমার মতো এ কোর্সটিও ৪ বছরের। কোর্সটি সম্পন্ন করতে মোট ৮টি সেমিস্টার পড়তে হবে। প্রতি সেমিস্টারের মেয়াদকাল ছয় মাস। এসএসসির পর ডিপ্লোমা কোর্সটি সম্পন্ন করলে কৃষিশিক্ষার শিক্ষক হিসেবে সরাসরি বিএড ডিগ্রিধারীদের সমান বেতন স্কেল পাবেন। অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্রেণির সমমর্যাদা পাওয়া যেতে পারে।

কাজের ক্ষেত্র

কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করে যেকোনো শিক্ষার্থী কৃষি, মাছের চাষ ও পশুপালনের জন্য কাজ করে এমন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারেন। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে কৃষিশিক্ষার শিক্ষক হিসেবে যোগদান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে উপসহকারী পরিচালক পদে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে ও বিভিন্ন কৃষি নিয়ে কাজ করে এমন এনজিওগুলোতে কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

কৃষি, পশুপালন ও মৎস্য চাষের ওপর ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্নকারীরা কোটাভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন, মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র, ধান গবেষণা কেন্দ্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়েও এখান থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্নকারীদের কাজের সুযোগ রয়েছে।

কী পড়বেন

বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ছাড়াও এখানে চার বছরে আটটি পর্বে পরিবেশ বিদ্যা, মাছের চাষ, গৃহপালিত পাখি পালন, মাঠ ফসলের চাষাবাদ, চিংড়ি চাষ ব্যবস্থাপনা, উদ্যান নার্সারি ব্যবস্থাপনা, হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা, মাছের পুষ্টি ও খাদ্য ইত্যাদি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়ে থাকে।

এসএসসি পাসের পর যারা ভাবছেন কোনো বিষয়ে ডিপ্লোমা করবেন, তাদের জন্য বলছি, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলো থেকে কৃষি, মৎস্য চাষ ও পশুপালনের ওপর চাইলে ডিপ্লোমা করতে পারেন। এ বিষয়ে ডিপ্লোমাধারী সরাসরি মাটি ও মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন। ফলে দেশের কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন।  ডিপ্লোমা করার পর উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছে থাকলে সেটাও সম্ভব। যে কেউ ডিপ্লেমার পর বিএসসি ও এমএসসি করতে পারবে সে সুযোগ দেশে এবং বিদেশে দুটো জায়গায়ই আছে।

ভর্তির যোগ্যতা ও খরচ

এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ থাকতে হবে ২.৫ এবং আলাদাভাবে গণিতে ও বিজ্ঞানে ৩.০০ থাকতে হয়। যেকোনো বিভাগ থেকে এসএসসি পাস বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এখান থেকে ডিপ্লোমা করার জন্য আবেদন করতে পারেন। সরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোতে চার বছরে শিক্ষা খরচ হবে সব মিলিয়ে ২০ হাজার টাকার মতো। আর বেসরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোতে খরচ কমবেশি হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত