মিসরের কিংবদন্তি রানী ক্লিওপেট্রা

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৩, ০১:২৮ এএম

মিসরের প্রতাপশালী রানী ক্লিওপেট্রা পণ্ডিতদের পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য জগতের ব্যক্তিদের আগ্রহের বিষয়। নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ার যেমন তাকে নিয়ে নাটক লিখেছেন, তেমনি পরিচালকরাও বানিয়েছেন চলচ্চিত্র। এই রানীকে নিয়ে তাদের আগ্রহের কারণ কী? তিনি কেন বিশেষ একজন? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

তিনি কি সুন্দরী ছিলেন? তর্কসাপেক্ষ। লাবণ্যময়ী ছিলেন? সম্ভবত। তিনি কি বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং লক্ষ্য অর্জনে নিজের নারীসত্তা ও ক্ষমতা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন? অবশ্যই। ঐতিহাসিক কোনো নারী চরিত্র নিয়ে সম্ভবত এত তর্ক-বিতর্ক হয়নি, যতটা হয়েছে মিসরের রানী সপ্তম ক্লিওপেট্রার বেলায়। রোমান সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের মুখে প্রাচীন মিসরের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে এই রানী প্রলোভনের আশ্রয় নিয়েছিলেন। এ ছাড়া এমন আরও অনেক কাজ করতে তিনি বাধ্য হন, যা নিয়ে আজও আলোচনা হয়। ইতিহাসবিদ ও প্রতœতাত্ত্বিকদের কাছে ক্লিওপেট্রা একই সঙ্গে কিংবদন্তি ও রহস্যময়ী রানী।           

ক্লিওপেট্রার শৈশব

মিসরের রানী ক্লিওপেট্রাকে নিয়ে লিখিত কোনো দলিল না থাকায় তার জীবনী নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। তার সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়, তার বেশির ভাগই সম্ভব হয়েছে গ্রিক-রোমান পণ্ডিতদের বদৌলতে। বিশেষ করে গ্রিক দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ প্লুতার্কের অবদান এ ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। খ্রিস্টপূর্ব ৭০ অথবা ৬৯ সালে ক্লিওপেট্রা জন্মগ্রহণ করেন মিসরে। তার বাবা রাজা দ্বাদশ টলেমি ছিলেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের জেনারেলদের একজন এবং মিসরে টলেমি রাজবংশের সদস্য। ধারণা করা হয়, মিসরের রানী পঞ্চম ক্লিওপেট্রা ছিলেন সপ্তম ক্লিওপেট্রার মা। খ্রিস্টপূর্ব ৫১ সালে রাজা দ্বাদশ টলেমি মারা গেলে তার কোন সন্তান মিসরের সিংহাসনে কে বসবে, এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। শুরুতে ১৮ বছর বয়সী ক্লিওপেট্রা তার ১০ বছর বয়সী ভাই ত্রয়োদশ টলেমিকে নিয়ে রাজ্য পরিচালনা করেন। তিনি তার এই ভাইকে বিয়েও করেন মিসরের ঐতিহ্য মেনে। কিন্তু তার ভাই ত্রয়োদশ টলেমি একা রাজ্যশাসন করতে চেয়েছিলেন, বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে নয়। এই দুই ভাই-বোন রাজসিংহাসনে বসার কিছুদিন পরেই টলেমির উপদেষ্টারা ক্লিওপেট্রার বিরুদ্ধে কাজ করা শুরু করেন। ফলে খ্রিস্টপূর্ব ৪৯ সালে দেশ ছেড়ে সিরিয়ায় চলে যেতে বাধ্য হন ক্লিওপেট্রা। সেখানে তিনি ভাড়াটে সেনাদের নিয়ে বাহিনী গড়ে তোলেন এবং পরের বছরই মিসরে ফিরে পূর্ব সীমান্তবর্তী শহর পেলুসিয়ামে ভাইয়ের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দেন। ওই সময় রোমান জেনারেল পম্পেকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন মিসরের রাজা ত্রয়োদশ টলেমি। এরপর পম্পের প্রতিপক্ষ জুলিয়াস সিজারকে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে স্বাগত জানান তিনি। ক্লিওপেট্রা তখন সিজারের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানান। এমনকি তিনি গোপনে সিজারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলেও পণ্ডিতদের রচনা থেকে জানা যায়।

সিজার ও ক্লিওপেট্রা

সিজারের কাছে ক্লিওপেট্রা সামরিক সহযোগিতার জন্য গেলে রোমান ওই জেনারেল সুযোগটি কাজে লাগাতে চান। ক্লিওপেট্রাকে সহযোগিতা করা তার নিজের জন্যই দরকার ছিল। তিনি ফের রোমের ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি ক্লিওপেট্রার বাবা মিসরের রাজা দ্বাদশ টলেমির নেতৃত্বে মিসর তার যে ক্ষতি করেছিল, সেই প্রতিশোধও নিতে চেয়েছিলেন সিজার। রোমান জেনারেল সিজারের সঙ্গে মিসরের রাজা ত্রয়োদশ টলেমির চার মাস ধরে যুদ্ধ চলে। সিজারের সেনাবাহিনীর আকার টলেমির বাহিনীর চেয়ে অনেক বড় ছিল। চার মাস দীর্ঘ যুদ্ধের একপর্যায়ে টলেমির বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে এবং রাজপ্রাসাদ ছেড়ে আলেকজান্দ্রিয়া শহরে পালিয়ে যান মিসরের রাজা। ধারণা করা হয়, সেখানে তিনি নীল নদে ডুবে মারা যান। অজনপ্রিয় বিজেতা হিসেবে মিসরে প্রবেশ করেন সিজার। তার মতোই অজনপ্রিয় ক্লিওপেট্রা ও তার আরেক ছোট ভাই ১৩ বছর বয়সী চতুর্দশ টলেমিকে মিসরের সিংহাসনে বসান তিনি। সিজার ক্লিওপেট্রার সঙ্গে কিছুদিন মিসরে ছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৭ সালে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ক্লিওপেট্রা। তার নাম রাখা হয় টলেমি সিজার। এই সন্তান সিজারেরই বলে মনে করেন মিসরের জনগণ। তারা তাকে সিজারিয়ন বা ছোট সিজার ডাকতেন।

খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সালের দিকে ছোট ভাই চতুর্দশ টলেমি ও ছেলে সিজারিয়নকে নিয়ে জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে সময় কাটাতে রোমে যান ক্লিওপেট্রা। সেখানে তারা বেশ কিছুদিন ছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ সালে সিজারকে হত্যা করা হলে ক্লিওপেট্রা ছেলে ও ভাইকে নিয়ে মিসরে ফিরে যান। এর কিছুদিন পর চতুর্দশ টলেমিকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে ক্লিওপেট্রা জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। চতুর্দশ টলেমির মৃত্যুর পর তিন বছর বয়সী সিজারিয়নকে সিংহাসনে বসান ক্লিওপেট্রা। তখন তার নাম দেওয়া হয় পঞ্চদশ টলেমি। গ্রিক দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ প্লুতার্কের মতে, ওই সময় ক্লিওপেট্রা নিজেকে মনে-প্রাণে প্রাচীন মিসরীয় দেবী আইসিসের মতো মনে করতেন। জনগণের শ্রদ্ধায় যাতে ঘাটতি না হয় এবং সিংহাসন যাতে নড়বড়ে না হয় এ জন্য প্রাচীন মিসরের রাজা-রানীরা নিজেদের দেব-দেবীর সঙ্গে যুক্ত করতেন। মিসরের রানী তৃতীয় ক্লিওপেট্রাও নিজেকে দেবী আইসিস ভাবতেন।                       

অ্যান্টনি ও ক্লিওপেট্রা

ছেলে পঞ্চদশ টলেমিকে নিয়ে ক্লিওপেট্রা বেশ কয়েক বছর নিশ্চিন্তে দেশ পরিচালনা করেন। তার মতো নিশ্চিন্ত মিসরের আর কোনো শাসক ছিলেন না। তবে দেশের বাইরে থেকে কোনো হুমকি ক্লিওপেট্রা না পেলেও অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা তাকে জেরবার করে। নীল নদে বন্যার কারণে প্রতি বছর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। মূল্যস্ফীতি ও অনাহার চরম আকার ধারণ করে। এদিকে ওই সময় রোমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপক মাত্রায় অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। রোমান জেনারেল জুলিয়াস সিজারের মিত্র মার্ক অ্যান্টনি, অক্টাভিয়ান ও লেপিডাসের সঙ্গে তার হত্যাকারী ব্রুটাস ও ক্যাসিয়াসের সংঘর্ষ বাধে। দুই পক্ষই মিসরের সহযোগিতা চায়। শুরুতে মিসরের রানী ক্লিওপেট্রা কোনো সাড়া দেননি। পরে তিনি মিসরে সিজারেরই রেখে যাওয়া সেনাদের রোমে মার্ক অ্যান্টনি, অক্টাভিয়ান ও লেপিডাসকে সহায়তার জন্য পাঠান। খ্রিস্টপূর্ব ৪২ সালে জুলিয়াস সিজারের হত্যাকারী ব্রুটাস ও ক্যাসিয়াসের বাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করেন মার্ক অ্যান্টনি ও অক্টাভিয়ান। এরপর তারা দুজন ভাগাভাগি করে রোম শাসন করেন।

ক্ষমতায় বসার কিছুদিন পর তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর টারসাসে ক্লিওপেট্রাকে আমন্ত্রণ জানান মার্ক অ্যান্টনি। জুলিয়াস সিজার হত্যাকাণ্ডের পর রোমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা ঘোলাটে হয়ে পড়ে এবং ওই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ক্লিওপেট্রার সহযোগিতা কতটা সময়োপযোগী ছিল, এসব মিসরের রানীকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেন অ্যান্টনি। গ্রিক দার্শনিক প্লুতার্ক জানান, বিশাল এক জাহাজে করে টারসাসে গিয়েছিলেন ক্লিওপেট্রা। তার পরনে ছিল দেবী আইসিসের পোশাক। অন্যদিকে নিজেকে গ্রিক দেবতা ডায়োনিসাস মনে করা ও তার পোশাক পরা মার্ক অ্যান্টনি ক্লিওপেট্রাকে দেখামাত্রই তার রূপ-লাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে তৎক্ষণাৎ প্রেমে পড়ে যান। ক্লিওপেট্রা ও অ্যান্টনির সেদিনের প্রথম সাক্ষাৎ পরবর্তী সময় বিখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ার তার দ্য ট্র্যাজেডি অব অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা নাটকে বিশদ ব্যাখ্যা করেন। যা হোক, ক্লিওপেট্রাকে অ্যান্টনি অভয় দেন, মিসরকে তিনি রক্ষা করবেন এবং তার কাছ থেকে মুকুট কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। একই সঙ্গে মিসরের রানীর ছোট বোন ও প্রতিপক্ষ আরসিনো যাতে হুমকির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেই অঙ্গীকারও করেন অ্যান্টনি। আরসিনো সে সময় নির্বাসনে ছিলেন। কিছুদিন টারসাসে থেকে দেশে ফেরেন ক্লিওপেট্রা। তার দেশে ফেরার অল্প কিছুদিন পর তৃতীয় স্ত্রী ফুলভিয়া ও সন্তানদের রেখে মিসরে চলে যান অ্যান্টনি। খ্রিস্টপূর্ব ৪১ সাল ও তার পরের বছর আলেকজান্দ্রিয়াতে ছিলেন তিনি। সেখানে তিনি ও ক্লিওপেট্রা অতুলনীয় লিভার নামে একটি মদ্যপানের সমিতি গড়ে তোলেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪০ সালের শীতকালে অ্যান্টনি রোমে ফিরে যান। ওই সময় ক্লিওপেট্রা জমজ সন্তানের জন্ম দেন। তাদের নাম রাখা হয় আলেকজান্ডার হেলিওস (সূর্য) ও ক্লিওপেট্রা সেলিন (চাঁদ)।                     

ক্ষমতার লড়াই

স্ত্রী ফুলভিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং একপর্যায়ে মারা গেলে অক্টাভিয়ানের সৎ বোন অক্টাভিয়াকে বিয়ে করতে বাধ্য হন অ্যান্টনি। তার ওই পদক্ষেপ ছিল ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে। স্ত্রীবিয়োগের পর অক্টাভিয়ানের প্রতি অ্যান্টনির আনুগত্য প্রমাণ করা দরকার হয়ে পড়েছিল। এ কারণে অক্টাভিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক বিয়ে করেন তিনি। ক্লিওপেট্রার শাসনে মিসর অভ্যন্তরীণ সমস্যা কাটিয়ে ক্রমেই সম্পদশালী দেশ হয়ে উঠছিল। খ্রিস্টপূর্ব ৩৭ সালে অ্যান্টনি ও ক্লিওপেট্রার ফের দেখা হয়। পার্থিয়া রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান চালানোর চেষ্টা করছিলেন অ্যান্টনি। পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় তার ওই উদ্যোগ পিছিয়ে যাচ্ছিল। ক্লিওপেট্রার সঙ্গে দেখা করে তিনি অর্থ সহযোগিতা চান। বিনিময়ে সাইপ্রাস, ক্রিট, সিরেনাইকা, জেরিকোসহ মিসরের পূর্বদিকের বেশির ভাগ অঞ্চল দেশটিকে ফিরিয়ে দিতে রাজি হন অ্যান্টনি। সিরিয়া ও লেবাননের বড় অংশও মিসরকে দিয়ে দিতে সম্মত হন তিনি। ওই সময় অ্যান্টনি ও ক্লিওপেট্রা ফের পরস্পরের সান্নিধ্যে আসেন এবং খ্রিস্টপূর্ব ৩৬ সালে টলেমি ফিলাডেলফোস নামে আরেকটি পুত্রসন্তান হয় ক্লিওপেট্রার।

বছরখানেক পর পার্থিয়ায় অপমানজনক পরাজয় হয় অ্যান্টনির। এরপর তিনি প্রকাশ্যে স্ত্রী অক্টাভিয়াকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি রোম ছেড়ে মিসরে ক্লিওপেট্রার কাছে চলে যান। খ্রিস্টপূর্ব ৩৪ সালে এক উৎসবে অ্যান্টনি ঘোষণা দেন, জুলিয়াস সিজারের ছেলে সিজারিয়ন মিসরের সিংহাসনের যোগ্য উত্তরসূরি। একই সঙ্গে ক্লিওপেট্রার গর্ভে জন্ম নেওয়া তার প্রতিটি সন্তানকে জমি উপহার দেন অ্যান্টনি। তার ওই ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হন অক্টাভিয়ান। তিনি দাবি করেন, অ্যান্টনি পুরোপুরিই ক্লিওপেট্রার নিয়ন্ত্রণে এবং রোম পরিত্যাগ করে মিসরে তিনি নতুন রাজধানী স্থাপন করেছেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩২ সালের শেষের দিকে রোমান সিনেট অ্যান্টনির সব পদ-পদবি কেড়ে নেয় এবং ক্লিওপেট্রার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দেন অক্টাভিয়ান। 

ক্লিওপেট্রার পরাজয়

খ্রিস্টপূর্ব ৩১ সালের ২ সেপ্টেম্বর গ্রিসের অ্যাক্টিয়াম শহরে অ্যান্টনি ও ক্লিওপেট্রার বাহিনীকে পরাজিত করে অক্টাভিয়ানের সেনাবাহিনী। ক্লিওপেট্রাকে বহনকারী জাহাজ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে মিসরে চলে যায়। অ্যান্টনি কোনোমতে ছোট কয়েকটি জাহাজ জোগাড় করে মিসরে পৌঁছান। অক্টাভিয়ানের বাহিনী আলেকজান্দ্রিয়া হামলা করে বসলে অ্যান্টনির কানে গুজব পৌঁছায়, ক্লিওপেট্রা হার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। গুজব শুনে তিনি তলোয়ার বের করে নিজেকে হত্যা করেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩০ সালের ১২ আগস্ট অ্যান্টনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে বিজয়ী অক্টাভিয়ানের সঙ্গে দেখা করেন ক্লিওপেট্রা। এরপর প্রাসাদে ফিরে নিজের কক্ষ বন্ধ করে দেন তিনি। সঙ্গে দুই নারী

ভৃত্য ছিল। সেখানেই মৃত্যু হয় তার। ক্লিওপেট্রার মৃত্যু ঠিক কীভাবে হয়, এ নিয়ে নিশ্চিত করে ওই সময় কেউ কিছু বলতে পারেননি। তবে গ্রিক দার্শনিক প্লুতার্কসহ অনেকের ধারণা, বিষধর গোখরা সাপ দিয়ে ৩৯ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন ক্লিওপেট্রা। তিনি চেয়েছিলেন, অ্যান্টনির পাশে যেন তাকে সমাহিত করা হয়। তা-ই হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত