রোগী মৃত্যুর পর বিভিন্ন দাবিতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভাঙচুর

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৬ এএম

রাজধানীর শাহজাহানপুরের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দিন ধরে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া জানিয়ে আসছিলেন রোগীর স্বজনরা। এরই একপর্যায়ে রোববার রাতে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালায় রোগীর স্বজন ও রেলওয়ে কলোনির কিছু লোকজন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার রাত ১০টার দিকে রেলওয়ে কলোনির লোকজন জড়ো হয়ে হাসপাতালের এক নম্বর ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মারা যাওয়া রোগী মাহিমার কাজিন পরিচয় দেওয়া সবুজ বলেন, শুক্রবার রাতে মাহিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে তিনি মারা যান। এরপর থেকেই ঘটনার সমাধানের দাবিতে তারা হাসপাতালে আসছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সবুজ বলেন, রোববার রাতে কলোনির লোকজনকে নিয়ে তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন এবং ঘটনার সমাধান দাবি করেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একজন চিকিৎসক আসার পর বিষয়টির সমাধান করা হবে। ওই চিকিৎসক আসার কিছু সময় পর হাসপাতালের ভেতর থেকে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

রোগী মারা যাওয়ার পর পুলিশকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে সবুজ বলেন, থানা-পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছেই সমাধান চাওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার লাশ দাফন করার জন্য বলেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিক কী ধরনের সমাধান চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিল শাখার সহকারী পরিচালক রায়হান হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, রোগীকে জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস বাস্ট হয়ে গিয়েছিল। অপারেশন করার আগেই তিনি মারা যান। এরপর রেলওয়ে কলোনির কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকজন গত দুই দিন ধরে হাসপাতালে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না পেয়ে রোববার রাতে তারা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।

তিনি বলেন, ভর্তি রোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের হাসপাতালের সামনে থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর কিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ বিষয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রেজওয়ানুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি বলেন, দুই পক্ষের হামলার সময় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে মৌখিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত