রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে রাজস্ব ছাড় দিতে হবে

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৩, ০৬:০৩ এএম

আগামী অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মাইক্রোবাস, জিপ গাড়ি আমদানিতে রাজস্ব ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ ডন। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে দেশ রূপান্তরের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে নেওয়া পরিবেশ সারচার্জ বা কার্বন কর সম্পর্কে ব্যবসা খাতের এ নেতা বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় কোনো করদাতার নামে একাধিক মোটরগাড়ি থাকলে একের অধিক প্রত্যেকটি গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট হারে পরিবেশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করেছেন। রিকন্ডিশন্ড খাতের ব্যবসায়ীরা মূলত জাপান থেকে মানসম্পন্ন গাড়ি আমদানি করে। প্রতিটি গাড়ি সর্বাধিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং পরিবেশবান্ধব। এসব গাড়ি থেকে কোনো কার্বন নিঃসরণের সুযোগ নেই। তাই এসব গাড়ির ব্যবহারকারীদের পরিবেশ সারচার্জ প্রদানের বিধান রাখা যৌক্তিক মনে করি না। আশা করি চূড়ান্ত বাজেটে এ বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিপণন খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বিনিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে গাড়ি আমদানিকারক ব্যবসায়ীর সংখ্যা (বারভিডার সদস্য) এক হাজারেরও বেশি। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশে লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান (শোরুম, ওয়ার্কশপ ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইত্যাদি) প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে। এ খাত থেকে সরকারকে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করে থাকে। এসব ব্যবসায়ী আয়কর, ভ্যাট, শুল্ক এবং সড়ক কর প্রদানের মাধ্যমে দেশে একটি ব্যাপকভিত্তিক করকাঠামো তৈরিতে অবদান রেখে আসছে। রিকন্ডিশন্ড মোটরযান ব্যবসাকে নির্ভর করে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি ও বীমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। তাই এ খাতের চলমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে চূড়ান্ত বাজেট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে পুরো অর্থনীতি লাভবান হবে।

ব্যবসায়ী এ নেতা বলেন, বহু বছর ধরেই রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব কাঠামো নির্ধারণ করবে। এতে এ খাতের ব্যবসায়ীরা লোকসান এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি হিসাব কষে বিনিয়োগ করতে পারবে। রিকন্ডিশন্ড খাতের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব কাঠামো আনা হলো না।

ব্যবসায়ী এ নেতা হাইব্রিড গাড়ির সিসি সø্যাব ও সম্পূরক শুল্ক হার পুনর্বিন্যাস করার দাবি জানিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে হাইব্রিড কার ও জিপ (১৮০১ সিসি থেকে ৪০০০ সিসি পর্যন্ত) আমদানিতে শুল্ক হার কমানো হয়নি। একইভাবে ফসিল ফুয়েল চালিত গাড়ির সিসি সø্যাব ও সম্পূরক শুল্ক হার, জিপ গাড়িরও সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়নি। শুল্কহার কমানো হলে এসব গাড়ি আমদানি বাড়বে। সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। চূড়ান্ত বাজেটে বিষয়গুলো বিবেচনার দাবি জানাই।

বৈদ্যুতিক গাড়ির সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এখন সময়ের দাবি এমন মত জানিয়ে বারভিডা সভাপতি বলেন, ডলার সংকটে চাহিদা অনুযায়ী এলসি খোলা যাচ্ছে না। আমদানি ও ব্যবহার বাড়াতে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিদ্যমান ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছিলাম। তা প্রস্তাবিত বাজেটে আনা হয়নি। চূড়ান্ত বাজেটে অন্তর্ভুক্তিতে সুপারিশ করছি।

তিনি বলেন, জ¦ালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, চীন, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বাড়ছে। তাই ওইসব দেশের সরকারও বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও ব্যবহারে ব্যাপক প্রণোদনা দিয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ মোটরযানে ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার কমে আসবে। তাই বাংলাদেশেও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে সুবিধা দিতে হবে।

১০ হতে ১৫ আসনবিশিষ্ট মাইক্রোবাস আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করে হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, এটা আসলে গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শিল্প কারখানায় কর্মী ও শিক্ষার্থী পরিবহনে এবং পর্যটন শিল্পসহ বিভিন্ন কাজে বড় শহর থেকে শুরু করে মফস্বলেও মাইক্রোবাসের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এ শ্রেণির গাড়িগুলো স্বাস্থ্যসেবা খাতে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত