মুসলিম উম্মাহ মানে কী

আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ১০:৫৫ পিএম

উম্মত বা উম্মাহর শাব্দিক অর্থ জাতি। ইমাম রাগেব ইস্পাহানি (রহ.) তার ‘মুফরদাতুল কোরআন’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘উম্মাহ বলা হয় এমন মানবগোষ্ঠীকে, যাদের মধ্যে কোনো বিশেষ কারণে সংযোগ ও ঐক্য বিদ্যমান। সে ঐক্য মতাদর্শ, বিশ^াস, দেশ, বংশ, বর্ণ ও ভাষার সমতার কারণেও হতে পারে।’

কিন্তু সব তাফসিরবিদ এ বিষয়ে একমত যে কোরআন মাজিদে যে জাতীয়তা বা ঐক্যের কথা বলা হয়েছে সেটি হলো ধর্মীয় ঐক্য ও জাতীয়তা।

বংশ, বর্ণ, দেশ ও ভাষার সীমানা পেরিয়ে এ ঐক্য হতে পারে। তাই কেউ আরবের লোক না হয়েও মুসলিম হতে পারে। আরবিতে কথা না বলেও মুসলিম হতে পারে। ইসলাম চেয়েছে গোটা পৃথিবীর মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় ঐক্য বজায় থাকুক।

এ ঐক্যের মূল উৎস তওহিদ বা একত্ববাদের বিশ্বাস। এটা মুসলমানদের ইমান ও বিশ্বাসের ঐক্য। কাবা শরিফের দিকে মুখ করে গোটা পৃথিবীর মুসলমানরা নামাজ পড়ে। মক্কায় গিয়ে হজ আদায় করে।

এটা তাদের ইবাদতের ঐক্য। পৃথিবীর সব মুসলমান একই কোরআন পাঠ করে। একই নবী মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসরণ করে। এটা তাদের আদর্শিক ঐক্য। এভাবে মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি হয়।

এভাবে তাদের মধ্যে উম্মাহ বা জাতীয়তাবাদের চেতনা ফুটে ওঠে। সে অর্থে মুসলমানরা পৃথক একটা জাতি।

অন্যদিকে ইসলামের শিক্ষা হলো, মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সব মানুষ আদম সন্তান। তাই সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতি ইসলাম সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। মুসলিম ও অমুসলিম দুটি পৃথক জাতি হয়েও মানুষ হিসেবে তারা এক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত