বাজেটে পে-স্কেল নিয়ে বড় পরিকল্পনা

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন (৯ম) পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে, যার জন্য বাজেটে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বাজেটের ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় নিয়ে একবারে নয়, বরং তিন ধাপে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।

যদিও এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

কর্মচারীদের একাংশের দাবি, নতুন পে-স্কেল সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার বেশিরভাগই গণমাধ্যমনির্ভর। অর্থ মন্ত্রণালয়, পে কমিশন কিংবা নীতিনির্ধারণী মহলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মচারীদের মূল বেতনের একটি বড় অংশ, যা সম্ভাব্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, বৃদ্ধি করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। আর তৃতীয় ও শেষ ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য সব ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় এনে বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা হবে।

নতুন পে-স্কেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই বেতন বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান বর্তমানের ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

এতে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেডভেদে কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানা গেছে।

বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন করে যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা শুধু কর্মরত চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীও এর আওতায় আসতে পারেন। এর ফলে বিশেষ করে স্বল্প পেনশনপ্রাপ্ত প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের একটি বিশেষ উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত